ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি এলাকা বাসীর জোরালো হয়ে উঠেছে| কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যনগর সদরে স্কুলে যেতে হয়| এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী| স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়| আবার শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল অথবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়| যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারে না| ফলে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে| মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ| দীর্ঘদিন ধরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে তারা কষ্ট করছে| তাই অতি দ্রুত এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন| তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকাবাসী আলোচনা করেছেন| প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন এমপি সাহেব| মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি| শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট আমি নিজেও দেখেছি| একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে| বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক| শিক্ষা বিস্তারের ¯^ার্থে সরকার সবসময় আন্তরিক| স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে| এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার| সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি| প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হলে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে|
Leave a Reply