সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার কংস ব্রীজ হইতে মধ্যনগর ব্রীজ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ধর্মপাশা হইতে গাছতলা বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় জান চলাচলের অন—উপযোগী হয়ে পড়ায় জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়াগা থেকে এই এলাকার একমাত্র বিনোদনের জায়গা টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুল বাগানে প্রতিদিন শত—শত বাস মাইক্রোবাস মোটর সাইকেল নিয়ে পর্যটকরা গোরতে আসে। এই সড়কে সৃষ্টি হয়েছে শত শত গর্ত ও সাইডে ভেঙ্গে গেছে, একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর ঘটনা। এটি নেত্রকোণা সড়ক জনপদের রাস্তা হওয়ায় গুরুত্ব কম দেয় প্রশাসন। এই সড়ক দিয়ে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহেরপুর ও জামালগঞ্জের লক্ষ লক্ষ মানুষ মোহনগঞ্জ হয়ে ট্রেনে ও বাসে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে যাতায়াত করে। তাই এলাকা বাসীর দাবি জন স্বার্থে দ্রুত মেরামত করে জান চলাচলে উপযোগী করে তুলতে হবে। বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক উৎপল কুমার পুরকায়স্থ বলেন, এই সড়কের মনাই নদীর উপর সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বেইলি সেতুটি ১৯৯৬ সালে নির্মিত হয়। মাইক্রবাস, মটর সাইকেল, বাস, মাহেন্দ্রগাড়ি ও হ্যান্ডটলি সহ বিভিন্ন ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং পাটাতনে বিভিন্ন স্থানে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে মারাত্মক প্রাণ হানির ঘটনা ঘটতে পারে। নেত্রকোণা সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকোশলী কর্তৃক সেতুতে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে এ সেতু দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ, কিন্তু জনসাধারণ, ব্যবসায়ীগণ নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বড় ট্রাক ও মাহেন্দ্র গাড়ি দ্বারা মালামাল পরিবহন করে আসছে, সারা বাংলাদেশ থেকে নেত্রকোনা হয়ে ধর্মপাশা সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমন পিপাসু হাজার হাজার পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র—শনি বারে শত—শত বাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও সড়কটি দিয়ে চলাচলের কারণে মারাত্মক যানজট ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে, তবু বাধ্য হয়ে এ সড়কটি ব্যবহার করে আসছে। সর্বোপুরি সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে এবং মনাই নদীর উপর বেইলি সেতুটি অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মাহমুদ আলনুর সালেহীন বলেন, ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় মেরামতের অংশ হিসেবে সড়কের খানাখন্দ দ্রুত মেরামত করার পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে বাদশাগঞ্জ বাজারের নিকট মনাই নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুটির কংক্রিটের সেতুর নকশা তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নকশা তৈরি হলে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদন হলে সেতুর কাজের দরপত্রের মাধ্যমে টিকাদার নিয়োগ করে সেতু নির্মাণ করা হবে।
Leave a Reply