কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানা পুলিশ কর্তৃক মানব পাচার সংক্রান্তে একজন চীনা নাগরিকসহ ২ জন গ্রেফতার ও ৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর ) বেলা ১টা ২৭মিনিটে উপজেলা মিডিয়া সেলে এক প্রেস নোট এর মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, মোঃ ফরিদুল ইসলাম, পিতা— আব্দুল হানিফ মিয়া, গ্রাম— সুখদেব পশ্চিম পাড়া, থানা— রাজারহাট, জেলা কুড়িগ্রাম, চায়না নাগরিক—নাম— লি ওই হাও (খর ডবর ঐধড়)। ভিকটিম ০৩ জন হলেন, ১. আলফা আক্তার (১৮), পিতা— রুবেল মিয়া, গ্রাম— কমলপুর, কেন্দুয়া পৌরসভা, থানা—কেন্দুয়া, জেলা—নেত্রকোণা, ২ .বৃষ্টি (১৭), পিতা—মৃত বছর/বছির উদ্দিন, গ্রাম— গোপী নদী, থানা—মেলান্দহ, জেলা— জামালপুর, ৩. লিজা আক্তার (২০), পিতা— মহর উদ্দিন, গ্রাম—গগডা (নানার বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকে), ইউনিয়ন মোজাফরপুর, থানা— কেন্দুয়া, জেলা— নেত্রকোণা। প্রেস নোটে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে কেন্দুয়া থানাধীন কেন্দুয়া পৌরসভাস্থ কমলপুর সাকিনের গার্মেন্টস কর্মী আলফা আক্তার (১৮), পিতা—রুবেল মিয়া কে গত ১ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন চীনা বিদেশী নাগরিক লি ওই হাও। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চায়নাতে ফ্লাইট এর উদ্দেশ্যে তিনি রওনা করবেন এবং আলফা আক্তারকে বিয়ে করা ও তাকে চায়না নিয়ে যাওয়ার জন্য তার পরিবারের লোকজনকে ১ লক্ষ টাকা প্রদানের বিষয়ে মৌখিকভাবে তিনি আশ্বস্ত করেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চায়নাতে আলফা আক্তারকে নিয়ে চলে যাবে এ লক্ষে আলফা আক্তার (১৮) তার পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করা ও চায়না নাগরীক স্বামীকে দেখানোর উদ্দেশ্যে কেন্দুয়া থানাধীন কমলপুর সাকিনস্থ আলফা আক্তার (১৮) এর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাদের সাথে ছিলেন, ফরিদুল ইসলাম নামক বাংলাদেশী একজন নাগরিক (সন্দেহভাজন দালাল) ও আরো দুইজন মেয়ে, যাদের মধ্যে জামালপুরের একজন মেয়ে বৃষ্টির সাথে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অন্য আরেকজন চায়না নাগরিকের বিয়ে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবী করা হয়। এ ছাড়াও আরেকজন মেয়ে সাথে ছিল। আলফা আক্তার (১৮) এর পরিবারের লোকজন আলফা আক্তারের স্বামী চীনা নাগরিকের সাথে কথা বলা কালীন সময়ে তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নাম্বার ও বাংলাদেশে অবস্থান করা কালীন সময়ে বৈধ ডকুমেন্ট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেন নাই। তাছাড়া তাদের সহযোগী বাংলাদেশী নাগরিক কোন সন্তোষজনক উত্তর ও বৈধ কোন ডকুমেন্টস না দেখাতে পারায় আলফা আক্তারের পরিবারের লোকজন সন্দেহজনক হিসাবে অদেরকে অবরুদ্ধ করে কেন্দুয়া থানা পুলিশকে সংবাদ প্রদান করলে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি সহযোগী ফরিদুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদেরকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আটক করে কেন্দুয়া থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে। উক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply