নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শিশুদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের আনন্দ আর সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে মুখর হয়ে উঠেছিল নেত্রকোণার কারলি ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ। সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কারলি ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের হাতে আমগাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি ব্র্যাক মাইক্রোফিন্যান্সের অনুদানে পরিচালিত প্রি-প্রাইমারি স্কুলটি পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রিয় অতিথিকে কাছে পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন ইউএনও আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, ব্র্যাক নেত্রকোণার জেলা সমন্বয়ক শেখ মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, উপজেলা ম্যানেজার (ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি) মো. মোর্শেদুল ইসলাম পাহলোয়ান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ব্র্যাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। ব্র্যাক নেত্রকোণা জেলা সমন্বয়ক শেখ মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জানান, পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে সারা দেশে ব্র্যাকের উদ্যোগে ৩ হাজার ৬৮০টি বিদ্যালয়ে মোট ৩ লাখ ৬৭৭টি গাছের চারা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে নেত্রকোণা সদর, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা, আটপাড়া ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ব্র্যাক পরিচালিত ১৪৬টি প্রি-প্রাইমারি ও প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২৬টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা এবং ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭০০টি মৌসুমি ফলের গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ১১ হাজার ৭২৬টি গাছের চারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮৭টি প্রি-প্রাইমারি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply