মোঃ সৈকত মিয়াঃ উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর উদ্যোগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে সাতটার দিকে লেংগুরায় আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা—১ (দুর্গাপুর—কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন (এলএসটিডি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করে যান্ত্রিকভাবে ধানের চারা রোপণের একটি চিত্তাকর্ষক প্রদর্শনী করা হয়। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র এক ঘণ্টায় প্রায় ৩৩ শতক (এক বিঘা) জমিতে নিখুঁতভাবে ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব। এতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষকের সময় ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ধানের ফলন বাড়ানোর বিকল্প নেই। বর্তমানে শিক্ষিত যুবসমাজ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক প্যান্ট—শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হলে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষির আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।” রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ করা হচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।” ধান গবেষণায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)—এর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান যখন নিম্নগামী, তখন ব্রি প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বগামী সাফল্য দেখাচ্ছে। হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় আমরা এমন ধানের জাত চেয়েছিলাম যা আগে পাকবে। ব্রি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে হাওরের উপযোগী স্বল্পকালীন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে।” “ধান হচ্ছে কৃষকের প্রাণ, দেশের প্রাণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি নয়, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো বিদেশে চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।”— ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর এলাকায় ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়—স্বজনদের নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে না।” ইতিমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেসব কার্ডে অনিয়ম পাওয়া যাবে, তা সাথে সাথে বাতিল করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় লেংগুরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনশো শিক্ষার্থীর মাঝে নিম, পেয়ারা ও মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের এসব চারা যত্ন সহকারে রোপণ ও পরিচর্যা করার আহ্বান জানান অতিথিরা। অনুষ্ঠান শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজে লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সফল সমাপ্তি টানেন।
Leave a Reply