1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

আটপাড়া শুনই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ————- ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ঢল

  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬৬ দেখা হয়েছে
আটপাড়া শুনই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ------------- ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ঢল
আটপাড়া শুনই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ------------- ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ঢল

নুর মোহাম্মদ খানঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলার ২ নং শুনই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ঢল নেমেছিল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের সকালে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই বিস্তীর্ণ প্রার্থনার স্থানটি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ, যেখানে একসাথে প্রায় ৫০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবহে ঘেরা এই ঈদগাহ মাঠটি শুধু শুনই ইউনিয়ন নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলা থেকেও মুসল্লীদের আকর্ষণ করে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। অনেকেই ভোরবেলা ঘর থেকে রওনা হয়ে সকাল হওয়ার আগেই মাঠে উপস্থিত হন, যাতে তারা সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থানীয়ভাবে এই ঈদগাহ মাঠটি বিশেষভাবে পরিচিত তার বিশাল আয়তন ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের জন্য। অনেকেই তুলনা করে থাকেন দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতগুলোর একটি শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান-এর সঙ্গে, যা অবস্থিত কিশোরগঞ্জ জেলায়। শোলাকিয়ার পরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃহৎ ঈদ জামাতের ক্ষেত্র হিসেবে শুনই ইউনিয়নের এই ঈদগাহ মাঠের নাম স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত। ঈদের দিন সকাল থেকেই মাঠের চারপাশে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন পোশাক পরিহিত শিশু-কিশোর, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠরা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে ঈদগাহের দিকে এগিয়ে যান। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা আগত মুসল্লীদের সুশৃঙ্খলভাবে মাঠে প্রবেশ ও কাতারবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ শুরু হয়। ইমামের তাকবিরের সাথে সাথে পুরো মাঠ জুড়ে একসাথে হাজারো কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারিত হলে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সেই সময় উপস্থিত মুসল্লীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর কাছে নিজ নিজ প্রার্থনা নিবেদন করেন। ঈদগাহ মাঠের আশপাশে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। পাশাপাশি অস্থায়ী মেডিকেল সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল, যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া যায়। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু বছর ধরেই এই ঈদগাহ মাঠে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে মুসল্লীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মাঠটির পরিধি ও গুরুত্ব। একসময় যেখানে কয়েক হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতেন, এখন সেখানে একসাথে কয়েক দশ হাজার মানুষ সমবেত হন, যা এ অঞ্চলের ধর্মীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লীরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছোটরা বড়দের সালাম করে, বড়রা ছোটদের দোয়া করেন—এই চিরচেনা দৃশ্য ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেকেই নামাজ শেষে কবরস্থান জিয়ারত করতে যান এবং প্রয়াত আত্মীয়স্বজনের জন্য দোয়া করেন। স্থানীয়দের মতে, শুনই ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ শুধু একটি নামাজের স্থান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধনের প্রতীক। প্রতিবছর ঈদের দিন এখানে সমবেত হওয়া মানুষদের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলা দেখা যায়, তা সত্যিই অনন্য। এবারের ঈদ জামাতও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এই ঈদগাহ মাঠ তার ঐতিহ্য বজায় রেখে আরও বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর