মোঃ ফারুক আহমেদ ফকিরঃ নেত্রকোণা সদর মদনপুর ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা মো: আল মোমেন। তিনি তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে শিক্ষানীয় কিছু কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমি যদি ১২ নং মদনপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি হতাম, তাহলে প্রথমেই আমার এলাকার অতীতের নেতৃত্ব ও ক্ষমতাধর মানুষদের জীবন থেকে শিক্ষা নিতাম। তারা একসময় ক্ষমতায় ছিল, সম্পদ তৈরি করেছিল—কিন্তু আজ তাদের অবস্থা কেমন? মানুষের কাছে তারা সম্মানিত, নাকি সমালোচিত? মানুষের বাস্তব প্রতিক্রিয়া থেকেই আমি শিক্ষা নিতাম—যাতে ক্ষমতা, লোভ ও বিলাসিতার মোহ আমাকে কখনো গ্রাস করতে না পারে। রাজনৈতিকভাবে আমি যে দলেই থাকি না কেন, আমি চেষ্টা করতাম প্রতিটি মহল্লা ও এলাকায় এমন মানুষদের খুঁজে বের করতে—যারা দলীয়, বিরোধী বা নিরপেক্ষ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের শিক্ষক, ডাক্তার, সমাজসেবক ও মেধাবী তরুণদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতাম। আমার কাজের প্রথম অগ্রাধিকার হতো শিক্ষা। ১২ নং মদনপুর ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাকে নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোনভিত্তিক ভাগ করে তাদের ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করতাম। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও সৃজনশীল তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের সামনে বড় স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করতাম। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে নিয়মিত সেমিনার, মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম ও সফল মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতাম—যাতে অন্তত কিছু তরুণের মধ্যেও বড় হওয়ার স্বপ্ন জাগে। সমাজের নেতৃত্বে আমি শিক্ষকদের বিশেষভাবে সামনে নিয়ে আসতাম। কারণ একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষক নন—তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতাম এবং তরুণদের কাছে তাদের মর্যাদা তুলে ধরতাম। আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থাকত স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ। আমাদের গ্রামীণ জীবন, কৃষি, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোকে সম্মান ও পুনর্জাগরণের চেষ্টা করতাম—যাতে আধুনিকতার মাঝেও আমরা আমাদের শিকড় ভুলে না যাই। প্রতি তিন মাস অন্তর আমি আমার এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করতাম। সরকারের বরাদ্দকৃত মৌলিক অধিকার ও মানবিক সুবিধা যেন তারা বাস্তবেই পায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতাম। তরুণদের একটি টিম নিয়ে সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়াতাম এবং সমাজের সহযোগিতায় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করতাম। মাদক ও জুয়া থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য খেলাধুলা, সচেতনতা, কাউন্সেলিং ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানোর চেষ্টা করতাম—যাতে তারা সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে। আমি যেহেতু একজন আর্কিটেক্ট, তাই ১২ নং মদনপুর ইউনিয়নের সম্ভাবনাময় ও অবহেলিত জায়গাগুলোতে সুন্দর, কার্যকর ও জনবান্ধব কিছু অবকাঠামো ও পাবলিক স্পেস তৈরি করার পরিকল্পনা করতাম—যা একদিকে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় করবে। আমার দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতাম। মানুষের মতামত জানার জন্য উন্মুক্ত কমেন্ট বক্স বা আলোচনা ব্যবস্থা রাখতাম। ভুল হলে প্রকাশ্যে তা স্বীকার করার মানসিকতা রাখতাম। সবশেষে, আমাদের গ্রামেগঞ্জে বিভাজন, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার একটি বড় সমস্যা। আমি চেষ্টা করতাম ১২ নং মদনপুর ইউনিয়নের সবাইকে একটি পরিবার হিসেবে ভাবতে—যেখানে দল-মত নয়, মানুষের কল্যাণই হবে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। আমি জানি, এসব পরিকল্পনার সবকিছু বাস্তবায়ন সহজ নয়। কিন্তু যদি আমাদের চিন্তায় এই স্বপ্নগুলো থাকে, তাহলে তরুণ প্রজন্ম থেকেই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে।
Leave a Reply