বিশেষ প্রতিনিধিঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ইং নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর এলাকায় কর্মরত একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত—পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপক মানিক নাহা’ এর বাইক দূর্ঘটনায় উক্ত সংস্থায় কর্মরত দীপা রানী নামের এক মাঠ কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দীপা রানী’র আকস্মিক এই মৃত্যু নিয়ে এলাকাবাসী হতবিহ্বল পড়েছে। রহস্যজনক এই দূর্ঘটনার খবর নিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়—দীপা রানী’কে বাইকে নিয়ে সংস্থাটির স্থানীয় ম্যানেজার মানিক নাহা ঐদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাঠ পর্যায়ে কিস্তি সংগ্রহে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দীপা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘোরতর আহত হওয়ার পর মোহনগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে নিহত দীপার লাশ পোস্টমর্টেম না করেই ঐদিন পুড়িয়ে ফেলা হয়। এখানেই রহস্যের দানা বাঁধে—কেন তড়িঘড়ি করে তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা হলে তারা জানায়— নিহত দীপা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল।
তার পরিবারের সদস্যদের দাবী— ঐদিন বৃহস্পতিবারে অফিসের কাজ শেষে বাড়ীতে আসার কথা ছিল দীপার। বাড়ীতে আর দীপার ফেরা হয়নি,সে ফিরল লাশ হয়ে। ঐদিকে অফিস ব্যবস্থাপক মানিক নাহা বলছে— মাঠের কাজ শেষ করে বাইকে করে আবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল দীপার। পথিমধ্যে মাথা ঘোরে চলন্ত বাইকের পিছন থেকে পড়ে গিয়ে ঘোরতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দীপা মারা যায়। বাইক চালানোর লাইসেন্স কেন নেই এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মানিক নাহা বলেন— আমি ২০১৪ সাল থেকেই বাইক চালাই, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হওয়ার পর পোস্ট মর্টেম ছাড়া কেন লাশ দাহ করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপক মানিক নাহা বলেন— এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে পরিবারের লোকজনের সম্মতিতেই লাশ দাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহতের স্বামী নর সুন্দর রতন শীল জানান— দূর্ঘটনার পর হাসপাতালে পৌঁছলে আমি নিজের জ্ঞান হারিয়ে ফেলি— তারপর লাশ পোড়ানোসহ কিভাবে কি হয়েছে সেসময়টাতে আমার মাথা সঠিকভাবে কাজই করছিলনা। এলাকাবাসী বসে ম্যানেজারকে ১ লাখ টাকা দিতে বলে আমাদের পরিবারকে। ইতিমধ্যে ম্যানেজার ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে — বাকী ৮০ হাজার টাকা ২০ মে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। প্রকাশ থাকে যে— ব্যবস্থাপক অফিস কার্যালয়েই একটি কক্ষে রাতযাপন করে আর পার্শ্ববর্তী একটি বাসায় দুই সন্তানের জননী সাবেক বীমা কর্মী দীপা একা থাকতেন। নর সুন্দরের পেশায় থাকা তার স্বামী কালেভদ্রে আসত স্ত্রীর কাছে। অফিস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে দীপা বেশ ক’দিন ধরে খুব অসুস্থ ছিল যেকারণে বাইক থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন— শারীরিকভাবে এত অসুস্থ থাকার পরেও কেন ম্যানেজার তাকে নিয়ে কিস্তি সংগ্রহে গেল? তাছাড়া উক্ত ম্যানেজারের বাইক চালানোর কোন বৈধ অনুমতি নেই মানে ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। কাজেই বাইক চালানোর অদক্ষতার কারণেই হয়ত এমনটা হয়েছে অথবা ঘটনার আড়ালে থাকতে পারে আরও কোন জটিল বিষয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোমেনুল ইসলাম জানান— দীপা নামের একজনকে দূর্ঘটনাজনিত কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি। উপজেলা লেভেলে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের ফ্যাসিলিটি নেই। দীপা রানীর মৃত্যুর বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান— নিহত দীপা রানীর পরিবার থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এনজিও কমীর্ দীপার মৃত্যু দূর্ঘটনা না পরিক্লপিত হত্যা, ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি তার সদুত্তর।
Leave a Reply