1. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
ছোট উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন, “কামরুন্নাহার লিপির হাত ধরে বদলাচ্ছে নারীদের জীবন” - দৈনিক দেশ কণ্ঠস্বর।। Dainik Desh Kanthaswar।। দেশ কণ্ঠস্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ছোট উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন, “কামরুন্নাহার লিপির হাত ধরে বদলাচ্ছে নারীদের জীবন”

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৩ দেখা হয়েছে
কামরুন্নাহার লিপি
কামরুন্নাহার লিপি

দিলওয়ার খান: একসময় স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিলেন নিজের উদ্যোগ। লক্ষ্য ছিল নিজের ভাগ্য পরিবর্তন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নের পরিধি বেড়েছে। এখন আর শুধু নিজের সাফল্য নয়, তাঁর স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলাকার অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং একটি বেকারমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়। তিনি নেত্রকোনার নারী উদ্যোক্তা কামরুন্নাহার লিপি। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’ এখন অনেক নারীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আশ্রয়স্থল।নিজের শ্রম, মেধা, সৃজনশীলতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে গড়ে তোলা এই উদ্যোগের সাফল্যের গল্প এবার উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও। গত ২২ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে কামরুন্নাহার লিপি ও তাঁর উদ্যোগের সাফল্যগাথা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কাজের স্বীকৃতি শুধু একজন উদ্যোক্তার অর্জন নয়, নেত্রকোনার নারী উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সম্ভাবনার জন্যও এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’। দেশীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় নারীদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে এখানে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কারুপণ্য। এসব পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও পৌঁছাচ্ছে। আর এই কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে নারীদের কাজের সুযোগ, বাড়ছে তাঁদের আয় ও আত্মবিশ্বাস।কামরুন্নাহার লিপির কাছে উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ কেবল ব্যবসা পরিচালনা কিংবা মুনাফা অর্জন নয়। তাঁর কাছে এটি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার একটি সামাজিক আন্দোলন। তিনি এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে নারীরা সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে কামরুন্নাহার লিপি বলেন, “আমি এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নারীরা সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। একই সঙ্গে আমার এলাকা অনন্তপুর ও কাইলাটি ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো বেকার মানুষ থাকবে না।” তাঁর এই স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছে এলাকার নারীদের দক্ষতা ও শ্রমকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের ঘরে বসে থাকা কিংবা সীমিত সুযোগের মধ্যে আটকে না রেখে তাঁদের উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করতে চান তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন।এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নারীরা কাজের বিনিময়ে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাঁরা অর্জন করছেন আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা। একজন নারী যখন নিজের উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তখন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে না, বদলে যায় পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও। নারীনেত্র কারুপণ্যের কর্মপরিসরে সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাই তৈরি হচ্ছে।২৫ অক্টোবর, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কারুপণ্য তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রম, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা একটি উদ্যোগ কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে তুলে আসে।কামরুন্নাহার লিপির এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, ধৈর্য ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রমের অভিজ্ঞতা। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও তিনি থেমে থাকেননি। নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছেন ‘জয়িতা’ সম্মাননা।বিশ্বব্যাংকের ফেসবুক পেজে তাঁর উদ্যোগের গল্প প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের একটি নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে, প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট উদ্যোগেও রয়েছে বড় সম্ভাবনা। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, উদ্যোগ, দক্ষতা এবং এগিয়ে যাওয়ার সাহস।কামরুন্নাহার লিপির স্বপ্ন অবশ্য এখানেই থেমে নেই। তিনি চান, অনন্তপুরের প্রতিটি নারী নিজের যোগ্যতা ও শ্রমের যথাযথ মূল্য পাক। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক ঘরে ঘরে। স্থানীয় সম্পদ, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কাইলাটি ইউনিয়ন হয়ে উঠুক একটি বেকারমুক্ত মডেল ইউনিয়ন।নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পথ ধরে অন্যের জীবনেও পরিবর্তনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা তাই শুধু একজন নারী উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল অর্থনীতির বিকাশের এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Dainik Desh Kanthaswar
Theme Customized By BreakingNews