আইরিন আলিফঃ শিশু—কিশোরদের বিনোদনের কথা বলে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে “ডিজনি চিলড্রেন পার্ক”। নামে “চিলড্রেন” থাকলেও বাস্তবে পার্কটি এখন অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রকাশ্য বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের সুস্পষ্ট অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পার্কটিতে অবাধে অনৈতিক ও অশ্লীল কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কিছুদিন আগে এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঘটনাটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে প্রশাসনের চাপে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। বন্ধের কিছুদিন পর পার্কটি আবারও চালু করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মালিকপক্ষ নিজেরাই এই অশ্লীল কার্যকলাপকে পুঁজি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে চাচ্ছে। এমনকি এই “বেনিফিট” ধরে রাখতেই তারা পার্কের অবকাঠামো আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পার্ক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং মালিকপক্ষের প্রত্যক্ষ মদদেই সবকিছু চলছে। স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভের সাথে বলেন, “এটার নাম ‘চিলড্রেন পার্ক’। কিন্তু এখানকার দৃশ্য এতটাই নোংরা ও লজ্জাজনক যে নিজের সন্তানদের নিয়ে এই পার্কের ১০০ গজের মধ্যেও যাওয়া যায় না। প্রশাসন চোখ থাকতেও অন্ধ। এ বিষয়ে কথা বলতে সরেজমিনে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এসময় পার্কের মালিক সালাম সিকদার এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সারাদিনে এখানে ১০—১৫ জন ছেলেমেয়ে আসে। পরিবার—পরিজন তেমন আসে না। পার্কে তেমন কোনো কার্যক্রমও নেই।মালিক সালাম সিকদার অসুস্থ থাকায় পার্কের কোনো খবর রাখতে পারেন না। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পার্কটিতে চলা অশ্লীল বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং জড়িত মালিক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বারহাট্টার সামাজিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
Leave a Reply