স্টাফ রিপোর্টারঃ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের কঠিন ও সংকটময় সময়ে নেত্রকোণা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সাহসী ছাত্রনেতা ছিলেন নেত্রকোণা পৌরছাত্রদলের শহীদ আমজাদ হোসেন আমজাদ। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী দলের কর্মসূচি বা আন্দোলন গড়ে তোলার মতো অনুকূল পরিবেশ ছিল না, তখন তিনি সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নেতৃত্ব দেন। নিয়মিতভাবে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল ও বিএনপির ব্যানারে আন্দোলন—সংগ্রাম সচল রেখে নেত্রকোণার রাজনীতিতে চাঙ্গাভাব বজায় রাখা এই নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সরকারের বিরুদ্ধে সরব অবস্থান দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুগত প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী ২০১৮ সালের পবিত্র রমজান মাসে তাঁকে রাতের অন্ধকারে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তুলে নিয়ে বড়াইল বালুর ঘাটে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারকাজ কার্যকরভাবে এগিয়ে না যাওয়ায় এবং প্রকৃত আসামিরা ধরা না পড়ায় বুধবার দুপুর ১২টায় স্থানীয় সাধারণ জনগণের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে শহীদ আমজাদের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব গাজী মুহাম্মাদ আবদুর রহীম রুহী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোলায়মান হোসেন রুবেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ—সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মাখন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুয়েল আহাম্মদ, মো. রমজান মিয়া, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ায় গভীর হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক নাহ কেন, খুনি হাসিনার আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জেলার তৎকালীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত সবাইকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এবং জড়িতদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
Leave a Reply