স্টাফ রিপোর্টারঃ নেত্রকোণায় বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)-এর আয়োজনে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সরকারি শিশু পরিবার (বালক) কুমড়ী, নেত্রকোণায় জীবন নাহার নাসরিন জেমি, সভানেত্রী, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), নেত্রকোণা এঁর সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুনাক নেত্রকোণা শাখার নেত্রীবৃন্দ, পুলিশ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পুনাক সাধারণত পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) বাংলাদেশ পুলিশের একটি অঙ্গসংঠন। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের মেলবন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি পুলিশ পরিবারের নারী সদস্যদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে আজ থেকে সাঁইত্রিশ (৩৭) বছর আগে গঠিত হয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। বাংলাদেশ পুলিশের দেশ সেবার সক্রিয় কার্যক্রম আইন শৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি জনগনের সেবার লক্ষে তৎকালীন আইজিপি মহোদয়ের সহধর্মিনী রওশন আরা খন্দকার ১৯৮৬ সালে হাতে গোনা কয়েকজন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহধর্মিনীদের সহযোগিতায় পুলিশ পরিবারের গুটি কয়েক সদস্য নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল সংলগ্ন টিন সেডের ছোট্ট একটা কক্ষে শুরু করেছিলেন পুনাকের প্রথম শুভযাত্রা। প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী জনাবা রওশন আরা খন্দকারের নেতৃত্বে প্রধমে পুলিশ পরিবারের সেবার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পুনাক কাজ শুরু করে। তাদের সম্মিলিত আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টায় শূণ্য হতে বিন্দু বিন্দু অর্থের সংস্থান করে পুনাকের পথচলা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় সেই স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে আজ ২৫ জন সভানেত্রীর নেতৃত্বে পুনাক অনেক দুর এগিয়েছে, এই দীর্ঘ যাত্রায় পুনাকের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও অগ্রজ সভানেত্রীদের অবদান অসামান্য ও গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণীয়। পুলিশ পরিবারের মধ্য সম্প্রীতি ও সৌহার্দের অনন্য সেতুবন্ধন রচনায় পুনাক অসামান্য অবদান রাখছে। পুনাক মুলত একটি নারী সংগঠন, যা নারীবান্ধব বিভিন্ন কর্মকৌশলের মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজের অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একটি উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ জীবন তথা দেশ গঠনের জন্য কাজ করছে। শুরুতে পুলিশ পরিবারের নারীদের কল্যাণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা হলেও সময়ের প্রয়োজনে এবং জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে দেশের নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ সকল শ্রেনীর গরিব, অসহায়, অসুস্থ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও দুস্থ মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে পুনাক। সংগঠনটি নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনসহ শিশু-কিশোরদের মানবিক সুকুমারবৃত্তি বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে পুনাক পুলিশ পরিবারের বাইরে আর্তমানবতার সেবার লক্ষ্যে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে অসহায়দের খুঁজে বের করে তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। এছাড়া দুস্থদের চিকিৎসাসেবার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্প করে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোচনা, স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতা র্যালি, পুনাক সদস্যদের মধ্যে শারীরিক শিক্ষা, ইয়োগা প্রশিক্ষন, হার্টের সুস্থতার জন্য বিনা তেলে রান্না প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প ও হ্যান্ড পেইন্ট প্রশিক্ষণ, আইন বিষয়ক নারী অধিকার রক্ষা, কিশোরী মেয়েদের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা, প্রতিবন্ধী নারীদের সম্পদ বন্টনসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় নারীর করনীয় বিষয়ভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে পুনাক। পুনাক সভানেত্রী মহোদয়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দক্ষ নেত্রীত্বে পুনাকের সদস্যের উদ্যম গতি ও কাজের প্রতি আন্তরিকতার ফলেই এত সাফল্য সম্ভব হয়েছে। বলা যায় পুনাক এখন একটা ব্রান্ডে পরিনত হওয়ার পথে। বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবার ও তাঁদের সদস্যদের কল্যাণে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সমিতি পুলিশ বিভাগের নারী, শিশু, কিশোর, যুবক এবং যুবাদের কল্যাণে ব্যক্তিগত আর্থিক স¦য়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সদস্যগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন, বিধি—বিধান অনুসারে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে সরকারের সৃজিত কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করছে।

Leave a Reply