চপল সরকারঃ নেত্রকোণার পূর্বধলা ও মোহনগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চিত্র। কোথাও সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই শ্রেণী কার্যক্রম, নেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জের মাস্টারপাড়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বেনজিন কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিনে দেখা যায়, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তিনটি ট্রেডে প্রায় ১৮৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। একই দিন সকালে পূর্বধলা উপজেলার মজিবর রহমান শিক্ষা কমপ্লেক্সের আওতাধীন জটিয়াবর মহাবিদ্যালয় ও মজিবর রহমান কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম নেই। ক্যাম্পাসে গরু-ছাগল চরতে দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মজিবর রহমান বলেন, “আপনারা যদি আগে বলে আসতেন তাহলে আমি সবাইকে বলে রাখতাম। এখন এভাবেই বন্ধ আছে। আরেকদিন বলে আসবেন, তাহলে লোকজন বলে রাখব।” প্রতিষ্ঠানটির এমন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ জন স্টাফ রয়েছেন, যার মধ্যে ৪ জন এমপিওভুক্ত। দুটি ট্রেডে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম চালু থাকলেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ শামীমা আক্তার বলেন, “নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই আমরা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম।” বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে মোহনগঞ্জ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ জন স্টাফের মধ্যে ১১ জন এমপিওভুক্ত। দুটি ট্রেডে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শত শত দেখানো হলেও বাস্তবে নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যার চেয়েও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম দেখা যায়। সচেতন মহলের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সীমিত সামর্থ্য নিয়ে কার্যকরভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply