1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

নেত্রকোণা জেলার সেরা বিদ্যালয় তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

  • আপডেট সময়ঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪৪ দেখা হয়েছে
নেত্রকোণা জেলার সেরা বিদ্যালয় তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
নেত্রকোণা জেলার সেরা বিদ্যালয় তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

সৈয়দ সময়ঃ নেত্রকোণা মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকটের করুণ চিত্র। ১৯৯৭ সালে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ একতলা ভবনের ফাটল ধরা ছাদের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে,দরজা—জানালা ভাঙাচোরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা,ভূমিকম্প বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। মোহনগঞ্জ—ধর্মপাশ সড়কের পাশে উপজেলার বামেরচর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দুটি একতলা ভবনের ওপরই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০০৬ সালে নির্মিত অপর একতলা ভবনেও মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে,যা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এমনকি শিক্ষকদের অফিস কক্ষও ওই ভবনেই অবস্থিত। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা—জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের কোনো বরাদ্দ পায়নি বিদ্যালয়টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় নবনির্মিত কয়েকটি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ দেওয়া হলেও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নন—ক্যাডার কর্মকর্তা সোহাগ সিদ্দিকী। যোগদানের পর থেকেই তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন। এতে অভিভাবকদের আস্থা ফিরে আসে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এসব সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা,অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিসও ওই ভবনে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নিতে পারবে।” বিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, “জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। কিন্তু বিদ্যালয়টি উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। একটি ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ,ছাদে ফাটল,পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা—জানালা ভাঙা। অন্য ভবনটিও প্রায় ২০ বছরের পুরোনো এবং সেখানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন,ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যেসব বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়, সেখান থেকে অধিদপ্তরই নির্বাচন করে বরাদ্দ দেয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের কোনো ভূমিকা থাকে না।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হবে।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পাঠিয়ে থাকে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” জেলার সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জনের পরও নিরাপদ ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, শিক্ষার মানের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর