1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন

নেত্রকোণা নার্সিং ইনস্টিটিউটে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৪ দেখা হয়েছে
নেত্রকোণা নার্সিং ইনস্টিটিউটে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ
নেত্রকোণা নার্সিং ইনস্টিটিউটে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ

হাফিজ উল্লাহ চৌধুরী আলিমঃ নেত্রকোণা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ জনবল তৈরির অন্যতম বিদ্যাপীঠ নেত্রকোনা নার্সিং ইনস্টিটিউট এখন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ সাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন, আর্থিক তছরুপ, স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক নির্যাতনের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাহিদা পারভীন ২০১১ সালে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে যোগদান করেন এবং বর্তমানে ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি সব নিয়ম—নীতি তোয়াক্কা না করে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতিরিক্ত ফি ও পোশাক বাণিজ্য: ২০২২ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভর্তির শুরুতেই সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে তাদের। এমনকি ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রেও ইনচার্জের মনোনীত নির্দিষ্ট টেইলার্স থেকে পোশাক নিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়। মেস ম্যানেজমেন্টে লুটপাট ও র্যাগিং: ইনস্টিটিউটের হোস্টেলে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থী থাকেন। মাসিক ১৪০০ টাকা করে খাবারের জন্য জমা দিলেও সেই টাকা থেকে বড় একটি অংশ ইনচার্জকে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, যে মেস ম্যানেজার ইনচার্জকে বেশি অর্থ এনে দিতে পারেন, তিনিই তার প্রিয় পাত্র হন। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও সনদ বাণিজ্য: অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীকে ইনচার্জ তার ব্যক্তিগত বাসায় ডেকে গৃহস্থালির কাজ করাতে বাধ্য করেন। এছাড়া ইন্টার্নশিপ সনদ, প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট উত্তোলনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। একাডেমিক বিষয়ে পাস—ফেল নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ছাত্রীত্ব বাতিল বা বদলির হুমকি দেওয়া হয়। ক্রয় ও সংস্কার কাজে অনিয়ম: প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সংস্কার কাজ, মালামাল ক্রয় এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় মেডিকেল রিপোর্টের নামে ভুয়া বিল—ভাউচার তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে। ক্রয় কমিটিতে অন্য সদস্যদের নাম থাকলেও সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয় তার ইশারায়। একজন শিক্ষক জানান, প্রতিবছর ক্রয় বরাদ্দ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন রাখা হলেও সেই অর্থের কোনো হদিস নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অডিট না হওয়ার সুযোগে অনিয়মগুলো ডালপালা মেলেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইনচার্জ সাহিদা পারভীন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিষ্ঠানের কোনো গোপন নথি দেখাতে রাজি না হলেও তিনি স্বীকার করেন যে, এখানে দীর্ঘ দিন কোনো অডিট হয়নি। তবে অসদাচরণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে হিসাব রক্ষক আখলাকুল বাসার সব বিল—ভাউচার প্রস্তুতের কথা স্বীকার করলেও অনিয়মের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর অডিট অধিদপ্তর অডিট করে থাকে। তবে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সচেতন মহলের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কার না করা হলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ নার্স তৈরি হওয়া বাধাগ্রস্ত হবে, যা পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যই হুমকিস্বরূপ।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর