1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূতুড়ে বিল অতিরিক্ত বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা

  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১৩৫ দেখা হয়েছে
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূতুড়ে বিল অতিরিক্ত বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূতুড়ে বিল অতিরিক্ত বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা

সৈয়দ সময়ঃ নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবায় চরম ভোগান্তি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাহকরা। একদিকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং, অন্যদিকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, নষ্ট মিটার পরিবর্তনে গাফিলতি, সংযোগ ও লাইন স্থানান্তরে হয়রানিসহ নানা অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলাসহ মোট ১২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ এলাকায় দিনের পর দিন অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ, অতিরিক্ত বিল এবং সেবার মান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার সতরশ্রী গ্রামের আবাসিক গ্রাহক মো. আব্দুর রহিম খান (মিটার নং: ১০৪৫০১২৪৮৩৫০০) জানান, গত সাত বছর ধরে তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যেই ছিল। মার্চ ২০২৬ মাসে বিল আসে ৩০০ টাকা এবং এপ্রিলে ৪৪২ টাকা। কিন্তু হঠাৎ মে মাসে বিল বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩২ টাকা এবং জুন মাসের বিল ভাউচারে আসে ১ হাজার ২৫৪ টাকা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই বছর আগে তার ডিজিটাল মিটার বিকল হওয়ার পর লিখিত অভিযোগ দিলেও আজ পর্যন্ত সেটি পরিবর্তন বা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা বাজারের বাণিজ্যিক গ্রাহক সুনির্মল কুমার সাহা (মিটার নং: ১০৪৫০১১১৫১৫৩২)-এর ফেব্রুয়ারি মাসের বিল ছিল ৩৫২ টাকা, মার্চে ৭৭০ টাকা। অথচ জুন মাসের বিল ভাউচারে ৪ হাজার ২২৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সাকিব অভিযোগ করেন, যেকোনো সমস্যায় অফিসে যোগাযোগ করলেও কাক্সিক্ষত সেবা পাওয়া যায় না। শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলা বাজারের চাঁন মিয়া, বারহাট্টার আসমা ইউনিয়নের শামীম, মোহনগঞ্জের গাগলাজুর এলাকার মনি ও রাসেল, খালিয়াজুরীর নগর ইউনিয়নের অমর সরকার, বিনয় তালুকদার ও মানিক সাহা, মদনের গোবিন্দশ্রীর মুক্তি ও সুলেমান, আটপাড়ার মোবারকপুরের শফিকুল, কেন্দুয়ার আশুজিয়ার সফিকুল, পূর্বধলার ইছুলিয়ার বিপ্লব এবং লাঙ্গলজোড়ার আজিজসহ অসংখ্য গ্রাহক অতিরিক্ত বিল, সংযোগে হয়রানি ও সেবার মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, লাইন বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগের সরকারি ফি পরিশোধ করার পরও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। অন্যথায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত খরচ দাবি করেন। নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের সৈয়দ রুবেল আমিন জানান, সমন্বয়হীনভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কারণে তিনি নিজের বসতঘর নির্মাণ করতে পারছেন না। খুঁটি স্থানান্তরের জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাকে জানানো হয়েছে, খুঁটি সরানোর সম্পূর্ণ ব্যয় নিজেকেই বহন করতে হবে। সিংহের বাংলা ইউনিয়নের রায়দুম রুহি গ্রামের আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও কোন কর্মী লাইন কেটেছে সে তথ্য পর্যন্ত দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অফিস। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত লোডশেডিং, অতিরিক্ত বিল, নষ্ট মিটার পরিবর্তনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন সেবায় হয়রানির অবসান ঘটিয়ে সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও কার্যকর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা স্পষ্ট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আকরাম হোসেন বলেন, “ভুলবশত কিছু বিল বেশি এসেছে। সেগুলো সংশোধনের কাজ চলছে।” তবে কী কারণে এমন ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ প্রক্রিয়া, মিটার পরীক্ষা এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর