হাওরাঞ্চল প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে “কাঁচাডহর” নামক উন্মুক্ত জলাশয়কে খাস-কালেকশনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার পায়তারা করছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়টি জানার পর স্থানীয় কৃষকদের মনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত জলাশয়টি খাস-কালেকশনে ইজারা না দিতে রবিবার বিকেলে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের অধীনে থাকা উক্ত জলাশয় সংলগ্ন চারটি গ্রামের ৬৪ জন কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের গাগলাজুর মৌজাস্থ “কাঁচাডহর” নামক হাওরে প্রায় আট একর আয়তনের একটি উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে। ওই জলাশয়ের চার পাশে ৭নং ইউনিয়নের গাগলাজুর, চৌড়াপাড়া, নয়াহাটি ও ঝালহাটি এই চারটি গ্রামের কয়েক’শ কৃষকের প্রায় ৩০০ একর বোরো জমি রয়েছে। বোরো মৌসুমে কৃষকরা উক্ত জলমহালটি থেকে জমিতে সেচের পানি দেওয়াসহ সেখান থেকে মাছ ধরে নিজেদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদাও মিটিয়ে আসছিল। কিন্তু এবার স্থানীয় একটি চক্র ওই জলাশয়টি খাস-কালেকশনে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে জোর লবিং চালিয়ে আসছে। এমনকি তারা ওই জলাশয়টি উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খাস-কালেকশনে ইজারা নিয়েছে বলেও এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। গাগলাজোড় চৌড়াপাড়া গ্রামের কৃষক তাজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকেই কাচাডহর হাওরের উন্মুক্ত ওই জলাশয় থেকে আমাদের এলাকার কয়েক’শ কৃষকের বোরো জমিতে সেচের পানি দিয়ে আসছি। পাশাপাশি আমরা কৃষকরা ওই জলাশয় থেকে মাছ ধরে পরিবারের প্রতিদিনের মাছের চাহিদাও পূরণ করে আসছি। কিন্তু আমাদের এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল উন্মুক্ত ওই জলাশয়টি খাস-কালেকশনে ইজারা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কাঁচাডহর নামক উন্মুক্ত ওই জলাশয়টি জনস্বার্থে খাস-কালেকশনে ইজারা না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, “এলাকার কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply