মোহনগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মুন্না মিয়া (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব| মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোণা শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়| পরে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে| গ্রেপ্তার মুন্না মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলম (ছোট্টন) এর ছেলে| মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে| পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী| আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন| অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী মুন্না তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়| পরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে| অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর কাউকে বিষয়টি জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়| পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভয় ও আতঙ্কের কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি| তবে পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় সে তার ফুফুর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে| পরে বিষয়টি শিশুটির বাবাকে জানানো হয়| অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গেলে তারা বিষয়টি অ¯^ীকার করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে| একপর্যায়ে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই রাতেই মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন| অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্তে নামে এবং ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে| মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মুন্না এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়| পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে| একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোণা শহরের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়| পরে মঙ্গলবার ভোরে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে| পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে| তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
Leave a Reply