মোহনগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার কেওয়ারদিঘী গ্রামে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি সলিং রাস্তা কাজ শেষ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় দেবে গেছে। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারাভাবে কাজ করায় সড়কটি একদিনও টেকেনি। একটি ছোট গাড়ি চলাচলের পরই রাস্তার অর্ধেক অংশ বসে যায় এবং ইটগুলো ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অধীনে কেওয়ারদিঘী গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে রহুল মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৮০ ফুট সড়কে সলিংয়ের কাজ করা হয়। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাজন মিয়া। গত শুক্রবার কাজ শেষ হলেও শনিবার সকালেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, পুরো রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় আস্ত ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ভাঙা ইটের টুকরো। এক ইটের সঙ্গে আরেক ইটের বড় ফাঁক রেখে তা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
নির্মাণকাজ চলাকালেই স্থানীয়রা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। কেওয়ারদিঘী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “ভাঙা ইট দিয়ে দায়সারাভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। শুরু থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। এখন একটি গাড়ি যেতেই রাস্তা ভেঙে পড়েছে।” সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে এবং অনেক স্থানে ইট আলাদা হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের পরিবর্তে ভাঙা টুকরো ব্যবহার করে বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য বলা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য সাজন মিয়া অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ সঠিকভাবেই হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমস্যা থাকলে তা মেরামত করা হবে।” সমাজ—সহিলদেও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ছোটন বলেন, “পুরো রাস্তা ভাঙা ইট দিয়ে করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে। তারপরও কোনো সমস্যা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একদিনের মাথায় সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তা দেবে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply