সুমন মাহমুদ শেখঃ ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এখানকার মানুষ ধর্মকর্ম যাই পালন করুক না কেন ধর্মের প্রতি প্রত্যেকটা মানুষের মনে রয়েছে গভীর আন্তরিকতা ও প্রচণ্ড দুর্বলতা। মানুষের এই ধর্মভীরু মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা নিচ্ছে সমাজের আলেমের লেবাসধারী কিছু ধর্মব্যবসায়ী। কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সারাদেশে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এমন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকির আওতায় না থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা। নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলাধীন ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের সহিলদেও খান বাহাদুর বাজারে জামিয়া হুসাইনিয়া ও হযরত সাওদা (রা.) মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ডে মহিলা মাদ্রাসা লিখা থাকলেও বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। এখানে ছেলে মেয়ে উভয়ই লেখা পড়া করছে। মহিলা মাদ্রাসা হলেও নেই কোনো মহিলা শিক্ষক। এমনকি নেই কোনো পরিচালনা কমিটি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদ্রাসার মোহতমীম সোহেল আহমেদ ক্যামেরা দেখেই ব্যস্ততার অযুহাতে দ্রুত মাদ্রাসা ত্যাগ করে চলে যান। মাদ্রাসায় পাঠদানরত মাওলানা শফিউল আলম ও হাফেজ হাবিবুল্লাহ হুজুরের কাছে কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন— “আমরা এখানে নতুন আসছি। এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারব না। মাওলানা শফিউল আলম ভালোভাবে মাদ্রাসার নামটা পর্যন্ত বলতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, মোহতমীম সাহেব বিভিন্ন উৎস ও ব্যক্তির কাছ থেকে মাদ্রাসার নামে অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু এসব অর্থ খরচের কোনো হিসাব নিকাশ নেই।
পরিচালনা কমিটি না থাকায় নেই কোনো জবাবদিহিতা। প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ২২শে এপ্রিল—২৬খ্রি. অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত নয় বছরের এক বালিকাকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক সালিশের মাধ্যমে দামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী মোহতমীম সাহেব স্থানীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে ভুক্তভোগীর পরিবার আইনি সহযোগিতা নিতে পারেনি, বিষয়টি আজও এভাবেই অমিমাংশিত রয়ে গেছে। সচেতন মহলের ধারণা, সারা দেশের গ্রামে—গঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব মাদ্রাসাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি তদারকির আওতায় এনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করলে এসব প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এলাকাবাসীর দাবি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।
Leave a Reply