বিশেষ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে ১০ মার্চ, রোজ- মঙ্গলবার দুপুর ২ ঘটিকায় শিশু আইন, ২০১৩ এর কার্যকরী বাস্তবায়ন শীর্ষক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী, বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, নেত্রকোণা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ মাহাবুব উল আলম ডিভিশনাল ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর (জাস্টিস ফর চিলড্রেন) এসএআরসি প্রকল্প আইন ও বিচার বিভাগ, ড. এ কে এম এমদাদুল হক, বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শিশু আদালত, নেত্রকোণা। মোঃ শাহ্ আলম, উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, নেত্রকোণা। মোঃ তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নেত্রকোণা, এস এম রাজিবুল হাসান, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নেত্রকোণা, ড. এ কে এম এমদাদুল হক, বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শিশু আদালত, নেত্রকোণা সহ জেলা আইনজীবি সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শফিউল হক তাং (কিরণ), বিজ্ঞ পিপি এডভোকেট আবুল হাসেম ও বিজ্ঞ বিশেষ পিপি নূরুল কবীর রুবেল। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন- মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী ও মো. আব্দুছ সালাম বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ) শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, নেত্রকোণা। এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী স্বাগত বক্তব্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতার কিছু অংশ দিয়ে শুরু করে বলেন-
এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবযাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।
শিশুরা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর কান্ডারী। তাই শিশুদের যথাযথ প্রতিপালন এবং তাদের শারিরীক মানসিক বিকাশ অত্যন্ত জরুরী। তবে এই বন্ধুর পৃথিবীতে শিশুদের নানারূপ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে কোন কোন শিশু হয় ভিকটিম আবার কোন কোন শিশু আইনের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তাই আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্য আমরা যেন সর্বোত্তম সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি সেই লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে শিশু আইন ২০১৩। যেখানে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বা ইবংঃ রহঃবৎবংঃ ড়ভ ঃযব পযরষফ এর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা শিশু অভিযুক্তকে কারাগারে পরিবর্তে নিরাপদ পরিবেশে রাখার নীতি, জামিনে মুক্তি বিষয়ে অগ্রাধিকার, শিশু অভিযুক্তের জিম্মা বিষয়সহ শিশু আইন ২০১৩ এর অধীন অন্যান্য বিষয়, প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব, সীমাবদ্ধতা এবং উত্তোরণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবো। শিশু আইন ২০১৩ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল- শিশুকে কখনোই প্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীর মতো বিচার করা যাবে না। কোন শিশু অপরাধী হলে তাকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে এই আইনে সংশোধন, পুনর্বাসন এবং সামাজিক পুনর্গঠনে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কারণে শিশু আইনে শিশু আদালত, প্রবেশন কর্মকর্তা এবং শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে আরো বলা হয়েছে- শিশুকে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুর মর্যাদা, মানসিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু আইন ২০১৩ এর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য প্রদান করেন মো. শাহ্ আলম তিনি শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে প্রবেশন কর্মকর্তার ভূমিকা সহ দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে বিচারপূর্ব পর্যায়ে আমলী আদালতের ভূমিকা সহ দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এস.এম রাজিবুল হাসান, শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে শিশু আদালত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায়, আমলী আদালত, প্রবেশন অফিসার এবং শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাগণের ভূমিকা ও তাদের উদ্দেশ্যে সার্বিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ড. এ কে এম এমদাদুল হক। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা আইনজীবি সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শফিউল হক তাং (কিরণ), বিজ্ঞ পি.পি এডভোকেট আবুল হাসেম, বিজ্ঞ বিশেষ পিপি (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) এডভোকেট নূরুল কবীর রুবেল সহ প্রমুখ ব্যক্তিগণ শিশু আইন, ২০১৩ এর কার্যকরী বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
Leave a Reply