যার কাছে যার অধিকার রয়েছে, তা যথাসময়ে পরিশোধ করা মুমিনের দাবী। কুরআনের নির্দেশনা: আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন। আল কুরআন— সূরা নাহল: আয়াত—৯০ আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, তোমরা আমানতগুলো তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।— সূরা নিসা—৫৮।
শ্রমিকদের সম্পর্কে মহানবী সাঃ বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরী দিয়ে দাও— সুনানে ইবনে মাজাহ। অর্থাৎ শ্রমিকের শ্রমের মূল্য দ্রুত দিয়ে যাও, সে যেনো তোমার পিছনে ঘুরতে না হয়। কষ্ট করতে না হয়। শ্রমিক তার শ্রমের মূল্য দ্বারা পরিবারের ভরণ পোষণ চালায়; পরিবারের সদস্যরা আশা বুক বেঁধে তাকিয়ে থাকে কখন তাদের মুখে খাবার জুটবে। শ্রমিকদের সাথে উত্তম আচরণ করতে বলেছেন প্রিয় নবী সাঃ। তিনি বলেন, তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনে দিয়েছেন, তোমরা যা খাও তাদেরও তা খাওয়ায়, যা পরিধান করো তাদেরও তা পরিধান করাও। সহীহ বুখারী।
অর্থাৎ শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের সাথে পশুর ন্যায় আচরণ করা যাবে না। খাওয়া ও পরার সময় শ্রেণি ভেদাভেদ করা যাবে না, এক সাথে পাশাপাশি বসে খেতে হবে, এমন নয় যে, তাদেরকে নোংরা জায়গায়, অপরিস্কার পাত্রে খাবার পরিবেশন করা যাবে; কিংবা উচ্ছিষ্ট খাবার তাদের জন্য রেখে দিবে। ইহাতে মানুষের প্রতি বেইনসাফী হয়। নবীজী সাঃ ইনসাফের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন সমাজের সর্বস্তরে। তাদেরকে কখনোই অত্যাচার না করা, কথা কিংবা কাজে।
“নবীজী সাঃ ফরমান, আল্লাহ বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করবো, এর মধ্যে একজন হলো সে ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে তার মজুরী দেয় না।— সহীহ বুখারী। অর্থাৎ শ্রমিকের হক নষ্ট করা অনেক বড় অন্যায়।” সমাজে কিছু অসৎ মানুষ রয়েছে তারা শ্রমিকের হক নষ্ট করে, যেমন: রিকসা বা যানবাহন দিয়ে চলাচল করে কিন্তু টাকা দেয় না। পেশী শক্তির জোরে যা তা আচরণ করে। এই সমস্ত শ্রমিকরা ভয়ে মুখ না খুললেও অন্তর থেকে তাদের ঘৃণা করে ও বদদোয়া দেয়। তাদেরকে কাজের বোঝা সহনীয় পর্যায়ে রাখা। রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা তাদের (শ্রমিকদের) উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে। আর যদি চাপাও তবে তাদের সাহায্য করো।— সহীহ বুখারী। শ্রমিককে কখনো কষ্ট না দেয়া।
“রাসূল সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাকে কষ্ট দেবেন— সূনানে আবু দাউদ। কাজ দেওয়ার আগে মজুরী নির্ধারণ করে নেওয়া উত্তম। রাসূল সাঃ বলেন, কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে নাও— সূনানে আবু দাউদ।” মোট কথা; শ্রমিকের মজুরী সময়মতো দিতে হবে, তাদের সম্মানের সাথে কথা বলতে হবে, কোনো ধরণের জুলুম করা যাবে না, তাদের সাথে মানবিক আচরণ করা, ন্যায় বিচার করা, জুলুম ও শোষণ না করা, শ্রমিককে ভাইয়ের মতো দেখা। ইসলাম শ্রমিককে শুধু কর্মচারী নয় বরং সম্মানিত মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। শ্রমিকের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করা হলে শ্রমিক দিবস পালন করার প্রয়োজন হয় না।
Leave a Reply