স্টাফ রিপোর্টারঃ নেত্রকোণায় বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ই মে) নেত্রকোণা সরকারি কলেজে এই সভার আয়োজনের বরা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. লুৎফা হক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শিক্ষানুরাগী। সভাপতি ছিলেন প্রফেসর মো: গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাক্ষ নেত্রকোণা সরকারি কলেজ।
এসময় বিভিন্ন স্কুল, কলেজের অধ্যাক্ষ ও শিক্ষক, ছাত্র—ছাত্রীও অভিবাবকবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তার বক্তত্বে বলেন সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতা উদ্দেশ্য বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলতে হবে। ইভটিজিং (উত্যক্তকরণ) রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সাইবার বুলিং ও এর আইনি প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
এছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় মূল বিষয়বস্তু তুলেন ধরেণ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শারীরিক ঝুঁকি, উচ্চ মাতৃমৃত্যু, অপুষ্টি, শিক্ষার সুযোগ বন্ধ, পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা, সন্দেহজনক বিয়েতে প্রশাসনকে জানানো। নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইভটিজিং বা হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা, ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া, নারীদের আত্মরক্ষামূলক মনোভাব তৈরি করা। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: নারীদের সম্মান প্রদর্শন এবং ‘উইকটিম ব্লেমিং’ (ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা) বন্ধ করা। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাজে মন্তব্য, ভুয়া আইডি ব্যবহার, ছবি বিকৃতি, ব্ল্্যাকমেইল বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস। প্রতিকার: অপরিচিত রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করা, পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখা, সাইবার অপরাধের শিকার হলে থানায় জিডি (এউ) করা বা ডিএমপি—র সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানানো। আইন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সাইবার বুলিংয়ের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সভার লক্ষ্যগোষ্ঠী (ঞধৎমবঃ অঁফরবহপব) : স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থী। অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি। সুপারিশ ও কর্মপরিকল্পনা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা: নিয়মিত অ্যাসেম্বলিতে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া। কমিটি গঠন: গ্রাম বা ওয়ার্ড পর্যায়ে ‘বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ সক্রিয় করা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার: ইন্টারনেট ব্যবহারে সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়ানো। হেল্পলাইন নম্বর প্রচার: ১০৯ (নারী ও শিশু নির্যাতন), ৯৯৯ (জরুরি সেবা) নম্বরগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করা। সামাজিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধই কেবল বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো ব্যাধিগুলো সমাজ থেকে দূর করতে পারে। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
Leave a Reply