কোহিনূর আলমঃ শপথ নিলেন ছাত্রনেতা থেকে জননেতা—১৫৯, নেত্রকোণা—৩ (কেন্দুয়া—আটপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সদস্য এবং কেন্দুয়া পৌর শহরের বাদে আঠারবাড়ীর বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম হিলালী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল পৌনে ১১টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান এএমএম নাসির উদ্দীন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে এ শপথ নেন তিনি। জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম হিলালী দীর্ঘ ৪দশক ধরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। মূলত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থা থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পদযাত্রা শুরু। তিনি ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আলাওল হলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯০ সালে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৩ সালে সভাপতি হো। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য পদ, ১৯৯৭ সালে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ—সাধারণ সম্পাদক ও ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ—বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হোন তিনি। ২০০৮ ও ২০১৬ সালে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপিতে নির্বাচিত হয়ে সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। এর ভেতরই ২০১২ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নেত্রকোণা জেলা বিএনপি’র নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ সালে তিনি প্রথম বারের মতো ধানের শীষের মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি। ২০০৮ সালে পুনরায় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন এবং জেলায় মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরাজিত হোন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাঁকে ধানের শীষের নমিনি উপহার দেয়া হয়। অবশ্য যা সবার কাছে প্রহসনের নির্বাচন হিসেবেই পরিচিত। এরপর নানা চড়াই—উৎরাই পেরিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য (বহিষ্কৃত), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঞা (দুলাল)কে ৪৯ হাজার ৫ শত ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হোন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অর্ধশতর বেশি (৫৬টি) মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময় হামলা, গ্রেফতার ও জেল— জুলুমও খেটেছেন। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জেল খেটেছেন তাঁর জন্মদাতা (বৃদ্ধ) বাবাও। উল্লেখ্য উক্ত আসনে জাতীয় পার্টির মো. আবুল হোসেন তালুকদার (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাকির হোসেন (চেয়ার) ও জেলা জামায়াতে ইসলামী কমিটির শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল কবির নিয়োগী (দাঁড়িপাল্লা)সহ মোট ৬জন প্রার্থী ছিলেন।
Leave a Reply