কোহিনূর আলমঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ছেলের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রাগে অভিমানে বিষ পানে মায়ের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে একাধিক সূত্রে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করলে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক। শনিবার (৭ মার্চ) বিকালে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা গ্রামের পূর্ব পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সাথে। জানা যায়, প্রায়শই পারিবারিক কলহের জেরে নিহত হাজেরা খাতুন (৬৮) তাঁর একমাত্র ছেলে সবুজ মিয়া (আরব আলী) কর্তৃক মারধরের শিকার হতেন। এরই জেরে গত ৪ মার্চ ভোরে হাজেরা খাতুন বিষ (কীটনাশক) পানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং তিন দিন পর (৭ মার্চ) মৃত্যু বরণ করেন তিনি। সবুজ মিয়ার ভাতিজা তৌহিদ মিয়া, সুলতান মিয়া এবং সবুজ মিয়ার পালিত এক ভাইসহ অনেকের দাবি, হাজেরা খাতুন মানসিকভাবে অস্বাভাবিক ছিলেন। তিনি এর আগে কয়েকবার বাড়ি থেকে হারিয়েও গিয়েছিলেন। কারো সাথে ঝগড়া করে বিষ পান করেছিলেন -বিষয়টি এমন নয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. উসমান মিয়া বলেন, তাদের মা- ছেলের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া ঝামেলা লেগে থাকত। ছেলে তার মাকে মারধরও করতো। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে তা সমাধানের চেষ্টাও করেছি অনেকবার। তিনি আরো বলেন, শুনেছি -ঘটনার আগেও হাজেরা খাতুনকে মারধর করা হয়েছিলো। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী মাকসুদ মুঠোফোনে জানান, ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর মূল কারণ বলা যাবে।
Leave a Reply