নুর মোহাম্মদ খানঃ নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (০৬ মে ২০২৬) ভোররাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ মাজু মিয়া (৩৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে আটপাড়া থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে আটপাড়া থানার এসআই (নিঃ) চন্দন কুমার পালের নেতৃত্বে উপজেলার ৭নং সুখারী ইউনিয়নের নরপতি গ্রামে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আসামির নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার হেফাজত থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাজু মিয়া ওই গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটপাড়া থানা পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার নম্বর—০৪, তারিখ ০৬/০৫/২০২৬ ইং। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় রুজু করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নেত্রকোণার গ্রামাঞ্চলেও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এ মাদকের ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং যে কোনো মূল্যে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply