কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পুলিশকে আগেই অবহিত করার পরও ভোরে নিষিদ্ধ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ লাখ টাকার জুয়া বা বাজি ধরার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে উপজেলার চেংজেনা এলাকায় এ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়জুরা ও সান্দিকোনা গ্রামের কয়েকটি ষাঁড় এ লড়াইয়ে অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়। লড়াইকে ঘিরে ব্যাপক জুয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এ আয়োজন করা হয়। প্রকাশ্যে এমন আয়োজন হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ লাখ টাকার বাজি ধরা হয় এবং উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতার মদদে ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতায় এ আয়োজন করা হয়েছে। সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ভোরে ফোন এলেও আমি ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি জানতে পারিনি। সকাল ৯টার দিকে ষাঁড়ের লড়াইয়ের খবর পাই। এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো নেতা জড়িত নন। তিনি জানান, লড়াইটি সান্দিকোনা, চেংজেনা ও রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য লড়াইয়ের বিষয়ে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু রাত ৩টার দিকে তাকে এবং প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু মুঠোফোনে বলেন, সম্ভাব্য লড়াইয়ের বিষয়টি কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে রাতেই জানিয়েছিলাম। এমনকি একটি ষাঁড় আটকানোও হয়েছিল। তবে পুলিশ আসতে বিলম্ব করায় লড়াই না দেওয়ার শর্তে ষাঁড়টি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা শুনেছি। কেন্দুয়া থানাধীন পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মোহাম্মদ বাবুল মিয়া সম্ভাব্য ষাঁড়ের লড়াইয়ের জন্য একটি ষাঁড় আটকের খবর পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এবং তিনি নিজেও সম্ভাব্য লড়াইয়ের তথ্যটি অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন বলে জানান। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী মাকসুদ বলেন, অবহিত হওয়ার পর রাতেই পুলিশ রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের শৈলাহাটি এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কোনো গরু বা ষাঁড় পাওয়া যায়নি। ষাঁড়গুলোর মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল নিষিদ্ধ এ ধরনের আয়োজন বন্ধে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
Leave a Reply