স্টাফ রিপোর্টারঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধর্ষণের দায়ে রহমত আলী (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। সেইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ২ বছরের কারাদ- প্রদান করেছেন। বুধবার ২০ আগস্ট দুপুরে আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ড. এ কে এম এমদাদুল হক। ৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন মোহনগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রহমত আলী। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মোঃ নূরুল কবীর রুবেল এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট সৈয়দ ওয়াজিবুল হক। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০১২ সালের মে মাসের ৩ তারিখ সকালে মোহনগঞ্জে একটি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তুলে নিয়ে প্রথম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে পরদিন মোহনগঞ্জ থানায় মাইজহাটি গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রহমত আলীকে (৫৫) কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে পরের বছর এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন। মামলার এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ নুরুল কবীর রুবেল বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। অপরাধ প্রবণতা কমবে, যে কোনো ধরনের অপরাধ বিচার বর্হিভূত নয়, একদিন বিচার হবেই। দোষীদের সাজা হবেই, অপরাধের শাস্তি পাবেই।
Leave a Reply