আটপাড়া প্রতিনিধিঃ গাজী কালুর কিচ্ছা পালা। এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে, মাঠে-ময়দানে, শীতের দীর্ঘ রাতে মানুষের প্রধান বিনোদন ছিল এই কিচ্ছা পালা। এখন শহর তো বটেই, গ্রাম থেকেও প্রায় হারিয়ে গেছে এই ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য। তবে এখনও কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং বেদে সম্প্রদায়ের উদ্যোগে কোনোমতে টিকে আছে গাজী কালুর কিচ্ছা পালার চর্চা। আটপাড়া উপজেলার ২নং শুনই গ্রামে বাচ্চু খান নিজ বাড়িতে এমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তুলে ধরেন । শীতের রাত এলেই যেন গ্রামের মানুষের মনে অন্যরকম এক অপেক্ষা কাজ করে। রাতভর খোলা আকাশের নিচে, হারিকেন কিংবা মাইক বাতির আলোয় বসে শত শত মানুষ মুগ্ধ হয়ে শোনে প্রাচীন কালের বীরত্বগাথা গাজী কালুর কিচ্ছা। শিশু থেকে শুরু কওে বৃদ্ধা সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামের খোলা মাঠ বা উঠান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগের দিনে এই কিচ্ছা পালা ছিল গ্রাম বাংলার সাংস্কৃতিক শিক্ষার এক বড় মাধ্যম। এতে যেমন ছিল বিনোদন, তেমনি ছিল নৈতিক শিক্ষা, সাহস, সততা ও মানবিকতার বার্তা। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিনোদনের দাপটে নতুন প্রজন্ম এই লোকজ ঐতিহ্য থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। তবুও শুনই গ্রামের মানুষ প্রমাণ করেছে ইচ্ছা থাকলে ঐতিহ্য বাঁচানো সম্ভব। তারা আজও শীতের রাতে সব কাজ ফেলে গাজী কালুর কিচ্ছা শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকে। এই আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং গ্রামবাংলার শেকড়কে আঁকড়ে ধরার এক নীরব প্রতিবাদ। সংস্কৃতিবিদ দের মতে, সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এমন লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারবে গ্রামবাংলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ইতিহাস।
Leave a Reply