নুর মোহাম্মদ খানঃ নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলায় ইমাম ও উলামা পরিষদের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আটপাড়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলন বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লী, আলেম—ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমাম ও উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)—এর জীবনাদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বর্তমান সমাজে ইসলামের সুমহান শিক্ষা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মাসুম চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মহানবী (সা.)—এর জীবনই মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় রোধে এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সিরাতুন্নবী (সা.)—এর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেশের বিশিষ্ট আলেমগণ। তাদের মধ্যে ছিলেন—হযরত মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সিবগাতুল্লাহ নুর, মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযাহারী, মুফতি ওয়ালিউল্লাহ, মুফতি আবুল কালাম তৈয়বি এবং ওবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল হাই। তারা তাদের বক্তব্যে মহানবী (সা.)—এর জীবন, চরিত্র, আদর্শ এবং ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার মুক্তির দিশারী। তাঁর জীবনাদর্শে রয়েছে শান্তি, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবকল্যাণের শিক্ষা। বর্তমান বিশ্বে অশান্তি, হিংসা ও বিভেদ দূর করতে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা সময়ের দাবি। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত আলেম—ওলামা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনা ও ওয়াজ নসিহত পেশ করেন। তারা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন—সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুসল্লীরা গভীর মনোযোগ সহকারে আলোচনা শোনেন এবং ধর্মীয় পরিবেশে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন। সম্মেলনের এক পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সার্বিকভাবে সম্মেলনটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে ও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজে ইসলামের সঠিক বার্তা আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।
Leave a Reply