কোহিনূর আলমঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গ্রামীণ পঞ্চায়েত ভেঙে একা বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় এক যুবককে পিটিয়ে আহত করে ১ লাখ চাঁদা দাবি এবং গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী গ্রামের চরপাড়া এলাকায়। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতার তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জল্লী গ্রামে দুই গ্রুপে বিভক্ত দুটি পঞ্চায়েতের মধ্যে গত প্রায় ২/৩ বছর যাবত নেতৃত্ব ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে । ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৩০) উল্লেখিত এলাকার মো. হারেছ মিয়ার ছেলে। তিনি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে একই এলাকার প্রতিবেশী হারেছ উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের দাওয়াত খান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোব্ধ উক্ত গ্রামের মৃত সঞ্জু মিয়ার ছেলে স্বপন, মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে শফিকুল ও মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে রোকন মিয়াসহ একটি পক্ষ ঐ দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে মসজিদ সংলগ্ন দোকানের পাশে এলোপাতাড়ি মারধরে আহত করলে পরিবারের স্বজনরা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায় তাকে। পরক্ষণেই তাঁর ঘরে ঢুকে গরুর মাংস দিয়ে খাওয়ানোর দাবি জানায় অভিযুক্তরা। অন্যথায় ১লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাঁদা দাবি করে। তা না হলে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না বলেও হুমকি দিয়ে আসে তারা। এরপর থেকে থেকেই শহীদ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিনযাপন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া ও আশেপাশের লোকজন। এছাড়া অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে আর একটি পরিবার। এ দিকে অভিযুক্ত শফিকুল ও রোকনের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় নি। রোকনের স্ত্রী নূরুন্নাহার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শহীদ আগে আমাদের পাঞ্চাতে (পঞ্চায়েত) ছিলো। এখন সে অন্য পাঞ্চাতে চলে গেছে। তাই তাকে মারধর করা হয়েছে। চাঁদা দাবির প্রসঙ্গে বলেন, খেয়ালে খেয়ালে চেয়েছিলো। শফিকুলের পরিবার চাঁদার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় সম্মতি জানায়। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply