কোহিনূর আলমঃ রোয়াইলবাড়ি দুর্গ একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। নেত্রকোণার কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নে সুলতানি বা মোগল আমলের এই দুর্গটি বেতাই নদীর তীরে অবস্থিত। প্রাচীন ‘কোটবাড়ি’ নামে পরিচিত এই স্থানে অশ্বারোহী বাহিনীর ঘাঁটি ছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রাচীন কিছু ছাদবিহীন ইমারত ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। ‘রোয়াইল’ শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র অশ্বারোহী বাহিনী। তাই রোয়াইলবাড়ি অর্থ অশ্বারোহী বাহিনীর বাড়ি বা দুর্গ। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি সুলতানি আমলের স্থাপনা হলেও পরবর্তীতে মোগল আমলে প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আরো ধারণা করা হয় যে, ঈশা খাঁ এই অঞ্চলে তাঁর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সময় এই দুর্গটি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ। দুর্গটির আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে ছাদবিহীন প্রাচীন ইমারত। খননকার্যের ফলে সুলতানি আমলের বিভিন্ন নিদর্শন এখানে পাওয়া গেছে। এক কথায় ভ্রমণ পিপাসুদের শান্তির আশ্রম এক রকম। প্রকৃতিক নৈসর্গিকতায় ভরপুর। এখানে প্রতিদিনই দুর দুরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ ঘুরতে ছুটে আসেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবসরের তীব্র ভালো লাগার টানেই ভির জমান তাঁরা ; জানান দুর্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা মো. কামরুল ইসলাম। নেত্রকোণা বা কিশোরগঞ্জ থেকে সড়কপথে কেন্দুয়া উপজেলায় এসে, সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজার থেকে রিকশা বা অটোযোগে রোয়াইলবাড়ি বাজার হয়ে সহজেই এই স্থানে পৌঁছানো যায়। যদিও রোয়াইলবাড়ি বাজার থেকে রাস্তার কিছু অংশ কাঁচা। এতে বর্ষায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় – পর্যটকদের। স্থানীয় ও ভ্রমণ পিপাসুদের দাবি, খুব এই দ্রুত রাস্তা পাকাকরণ এবং এই দুর্গের আধুনিকায়নসহ সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা জরুরি। কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকবি মো. আব্দুল হাই সেলিম বলেন, রোয়াইবাড়ি দুর্গ তথা কেন্দুয়া বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম সূতিকাগার। এর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
Leave a Reply