কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত গৃহবধূ সোমা আক্তারের হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবিতে রবিবার সকালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নং রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী—পুরুষ, যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা সোমা হত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলেন। নিহত সোমা আক্তার উপজেলার আমতলা গ্রামের মোঃ সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী এবং তিন কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন। গত ২২ এপ্রিল বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বলে জানা গেছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা অবিলম্বে এজাহার নামীয় অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। নিহত সোমা আক্তারের স্বামী সাদ্দাম হোসেন বলেন, জমি সক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দরবার শালিশে প্রকাশ্যে আমার ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনটি ছোট বাচ্চাদের আমি কি দিয়ে বুঝ দিব। আমার স্ত্রীর হত্যার বিচার চাই। নিহত সোমা আক্তারের ভাই বলেন আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এলাকাবাসীর শালিশে দিনের বেলায় সন্ত্রাসীরা আমার বোনকে হত্যা করেছে, পুলিশ ভিডিও করেছে, এর পরেও মামলা নিতে গরিমশি করে তার পর মামলা রেকর্ড করেছে। ঘটনায় উপস্থিত এস আই উপস্থিত থেকে ভিডিও করেছে। টাকার বিনিময়ে ঘটনার সাথে জরিত কিছু লোককে বাঁচাতে ভিডিও কাটসিট করা হয়েছে। আমার বোনের হত্যাকারি আবু বক্কর ওরেফে জানিক মিয়াকে পুলিশ আটক করার ১৫ ঘন্টা পরে থানা থেকে ওসি সাহেব ছেড়ে দিয়েছে। কেন, কোন কারণে, কোন স্বার্থে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে আমরা জানিনা। হত্যায় জরিত একজনকে থানায় আটক রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, পুলিশের এমন কর্মকান্ডে আমরা তিব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ অভিযোক্ত হত্যাকারিকে ছেড়ে দিয়ে আরও অপরাধ করার সুযোগ দিচ্ছে। এজহারে নামীয় উল্লেখিত কয়েক জনকে বাঁচাতে পুলিশ কাজ করছে। প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে মামলাটির কতটুকু সুবিচার পাওয়া যাবে এ নিয়ে ভাবনায় এলাকাবাসী।
Leave a Reply