কোহিনূর আলমঃ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৯, নেত্রকোণা—৩ (কেন্দুয়া — আটপাড়া) আসনে কেন্দুয়ার বাদেআঠারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার দীর্ঘ ৪২ বছর পর তিনি এই স্বাদ গ্রহণ করলেন। ড .রফিকুল ইসলাম হিলালীর ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, শ্রম, নিজ এলাকার উন্নয়ন ভাবনা, আপামর জনসাধারণের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা, ভালোবাসা এবং ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক ভূমিকাই অন্যতম প্রধান পাথেয় হওয়ায় জনসাধারণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। সচেতন নাগরিকদের অনেকেই বলছেন, ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী একজন পোড়খাওয়া ও আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। কেননা, তিনি ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আলাওল হলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৩ সালে সভাপতি হোন। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য পদ, ১৯৯৭ সালে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ—সাধারণ সম্পাদক ও ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ—বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হোন তিনি। ২০০৮ ও ২০১৬ সালে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপিতে নির্বাচিত হয়ে সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। ২০১৩ সালে ২০—দলীয় ঐক্য জোটের সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন ড. হিলালী। এর ভেতরই ২০১২ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নেত্রকোণা জেলা বিএনপি’র নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা আরো বলেন, দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পেরুনো অভিজ্ঞ মানুষ ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলের দায়িত্ব ভার পালন করতে গিয়ে অর্ধশতর বেশি (৫৬টি) মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময় হামলা, গ্রেফতার ও জেল— জুলুমও খেটেছেন । এমনকি এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জেল খেটেছেন তাঁর জন্মদাতা বাবাও । অন্যদিকে নির্বাচনী অভিজ্ঞতার ঝুলি নেহাতই কম ছিলো না তাঁর। ২০০৬ সালে প্রথম বারের মতো ধানের শীষের মনোনয়ন পান তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি। ২০০৮ সালে পুনরায় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন এবং জেলায় মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও কেন্দুয়া—আটপাড়ার সাধারণ মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাঁকে ধানের শীষের নমিনি উপহার দেন। অবশ্য যা সবার কাছে প্রহসনের নির্বাচন হিসেবেই পরিচিত। সবমিলিয়ে নানা সমীকরণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ছাড়াই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী করেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১লাখ ১৮ হাজার ৪ শত ৬৯ টি। অন্যদিকে তাঁর নিকটবর্তী (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী) প্রার্থী ছিলেন, নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য (বহিষ্কৃত), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঞা (দুলাল)। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৬৮ হাজার ৯ শত ৬১ টি। ৪৯ হাজার ৫ শত ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হোন। উল্লেখ্য উক্ত আসনে জাতীয় পার্টির মো. আবুল হোসেন তালুকদার (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাকির হোসেন (চেয়ার) ও জেলা জামায়াতে ইসলামী কমিটির শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল কবির নিয়োগী (দাঁড়িপাল্লা) সহ মোট প্রার্থী ছিলেন।
Leave a Reply