নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউর ইউনিয়নের ইছুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এমএলএসএস (দপ্তরি) পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইচুলিয়া গ্রামের মৃত আলাল উদ্দীনের ছেলে মো. আজিজুর রহমান ও একই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে মো. নূর উদ্দিন এ ব্যাপারে সম্প্রতি নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নেত্রকোণা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। অভিযোগকারীরা বিষয়টি বুধবার সাংবাদিকদের জানান। অভিযোগে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে উপজেলার ইচুলিয়া গ্রামের মৃত আলী ফকিরের ছেলে মো. রমজান ফকিরকে এমএলএসএস (দপ্তরি) পদে নিয়োগ দেয়। এতে করে যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনঃরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগকারী মো. নূর উদ্দিন ও মো. আজিজুর রহমান উভয়েই বলেন, রমজান ফকির কখন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেননি। তিনি বোটেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা একটি অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের সনদ ব্যবহার করে চাকরির জন্য আবেদন করেন। যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য বের হয়ে আসুক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের এমএলএসএস মো. রমজান ফকির বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিধি মোতাবেক আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। নিয়োগের পর থেকে আমি বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছি। ওদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি। বোটেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ খোকন জানান, ইছুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। মানবিক বিবেচনায় রমজান ফকিরকে অষ্টম শ্রেণির একটি সনদ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তাদের বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন না। ইছুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, এমএলএসএস নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমার আগের প্রধান শিক্ষকের সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আবসরে চলে গেছেন। নিয়োগের পুরো বিষয়টি পরিচালনা কমিটির অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ইছুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি এখানে যোগদানের আগে হয়ত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
Leave a Reply