কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আপন বোন জামাই ও ছোট বোনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ও অটো রাইস মিল আত্মসাৎ ও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। কেন্দুয়া পৌরসভার টেংগুরী গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান ভূঞা নেত্রকোণা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মোকদ্দমা নং— ২৫৪ /২০২৬। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেংগুরী মৌজায় প্রায় ৪৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে একটি অটোরাইস মিল পরিচালনা করে আসছিলেন মনিরুজ্জামান ভূঞা। ২০০৯ ও ২০১০ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে নামজারি, খাজনা প্রদানসহ সকল আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং সরকারি স্বীকৃত মালিক হিসেবে ভোগদখলে ছিলেন তিনি। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি অভিযুক্ত বোন জামাই আজহারুল হক ও তাঁর স্ত্রী ফরহানা ইয়াসমিনকে আম মোক্তারনামা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে অটো রাইস মিল দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর অজান্তেই হেবা (দান) ঘোষণার দুটি দলিল তৈরি করে নেন আপন বোন ও বোন জামাই। পরবর্তীতে আদালতে দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের অবৈধ দাবির পক্ষে শক্তি প্রদর্শন করে তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২ এপ্রিল বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে তাঁর রাইস মিলে প্রবেশ করে কর্মচারীদের কাজে বাধা দেয় এবং জমি দখলের চেষ্টাও চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায় যে, যে কোনো সময় তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে বলে। অভিযুক্ত (সাউদপাড়ার বাসিন্দা) আজহারুল হক বলেন, ২০২১ সালে ৩২ লক্ষ টাকা দিয়ে ৪৩ শতাংশ জায়গা কিনে হেবা দলিল করি। এবং জমি নামজারির মাধ্যমে খাজনা দিয়ে আসছি। আমার কাছে থেকে মোট ৪৭ লক্ষ টাকা নিয়েছেন মনিরুজ্জামান ভূঞা। আমি তার কাছে আরও টাকা পাই। মামলার বিষয় কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাই বাঁচার জন্য আমিও একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। তদন্ত অফিসার কেন্দুয়া থানার এসআই মোঃ রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply