চপল সরকারঃ নেত্রকোণা জেলার হাওর অধ্যুষিত জনপদ মদন উপজেলায় অবস্থিত জনতা কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজ এবং আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম না থাকার অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে কোনো শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত না হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) সুবিধা ভোগ করছেন| এতে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল|
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলেজগুলোর নামফলক ও প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম কিংবা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ চোখে পড়ে না| বছরের অধিকাংশ সময় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত বন্ধ থাকলেও কাগজে-কলমে বিভিন্ন কার্যক্রম দেখিয়ে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে| এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি ˆতরির লক্ষ্যে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে| কিন্তু বাস্তবে পাঠদানবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা সরকারের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করার পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ˆবষম্য সৃষ্টি করে| স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|
অথচ সংশ্লিষ্ট কলেজে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে| তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন| শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থী উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন| অন্যথায় নামসর্ব¯^ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অর্থ ব্যয়ের খাত হয়ে দাঁড়াবে| সোমবার(২২ জুন) সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে কাগজে কলমে ৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত নেই একজন ছাত্র ছাত্রীও|অথচ ১৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনই এমপিওভুক্ত| তাদের মধ্যে ৩ জন উপস্থিত হয়ে অফিস কক্ষে আড্ডা দিচ্ছেন|
এ বিষয়ে আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামসুল হক জানান যে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কম থাকায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে| তাছাড়া এমন হাওর অধ্যুষিত অঞ্চলের অভিভাবকরা সচেতন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আসেন না তেমন একটা| অন্যদিকে জনতা কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজটি বন্ধ| পরে সাংবাদিক আসার খবরে নাইটগার্ড ও আয়া এসে উপস্থিত হন| তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি| তবে তারা জানিয়েছেন যে, এভাবেই এখানকার কার্যক্রম চলছে| এব্যাপারে কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ আলমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মদন উপজেলা পরিষদে সাংবাদিকদের যেতে বলেন| পরে সেখানে গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন|
তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনের উচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা| শিক্ষা খাতে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনতা এবং আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী| তাদের মতে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি| এব্যাপারে মদন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ জানান যে, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি| এখনও প্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজখবর আমার নেওয়া হয়নি৷ তবে এমপিওভুক্তির সুবিধা নিয়েও শ্রেণী কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা না করার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে| এমনটা কোনভাবেই কাম্য নয়|
Leave a Reply