কোহিনূর আলমঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ার মুতাসিম হোসেন সিরাজী (৪৭) হত্যা মামলার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই মাকদুম সামী কল্লোলসহ পরিবারের স্বজনরা এসব অভিযোগ করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারী আবাসনের শীতলক্ষ্যা ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবারের সঙ্গে বসবাসরত অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর মুতাসিম হোসেন সিরাজীর মৃত্যু হয় । ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় । পরে স্বজনরা মরদেহে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই নিহতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রোফ ডরিন (৩৫), শাশুড়ি মোছা. নাছিমা (৫৫) এবং শ্যালক মো. দ্বীপ (২৫)—এর বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর ১৮ (৭) ২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মামলার বাদী মাকদুম সামী কল্লোল বলেন, মামলার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। আমরা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। জানি না, অদৃশ্য কী শক্তির কারণে এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আমরা দেখছি না। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল আউয়াল মুঠোফোনে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের স্বজনদের হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানালে জবাবে তিনি বলেন, আমরা কাজ করছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। উল্লেখ্য, নিহত মুতাসিম হোসেন সিরাজী কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রহিমপুর (গামরুলী) গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে।
Leave a Reply