তামাম বিশ্বে যে ক’জন মাথাটাকে দেয় দাম,
তুমি তাদের সেরা একজন—নেও বারবার নাম।
আবার যারা ঘৃণায় ছুঁড়ে বিষাক্ত সব বুলি,
তাদের বাঁশ ঠেলার ক্ষণে বাড়াও সহানুভূতির ঝুলি।
গিলোটার ব্যবহার কবে যাবে কার পক্ষে বিপক্ষে,
সেই ভাবনায় রাত কাটাও নিঃশব্দ সংশয় বক্ষে।
কখনো জোরসে করতালি পেলেই ভাবো—“আমি মহাজ্ঞানী!”
পরক্ষণেই মনের দেয়ালে লিখা ভাসে—“ওটা ফাঁপা বাণী!”
সব তালগোল পাকিয়ে বসে থাক নীরবে এক কোণে,
নিজের ছায়াকেও এখন চিনতে পারো না মনে মনে।
আকাশ পানেও চেয়ে দেখো ভাবনাটা কেমন ঝাপসা,
বিকৃতির প্রতিচ্ছবিতে মেঘের আড়ালে ঢেকে গেছে লালসা!
জলঘটিতে কায়া দেখতে গিয়েও খেলে এক ধরা,
ঘোলা জলে ভেসে উঠল দ্বিমুখী এক ধারা।
মুখে নীতি, অন্তরে শুধু সুবিধাবাদের নাঁচ,
চোখে লটকানো চশমার ফ্রেমে সাঁটিয়েছ অন্ধের কাঁচ।
এক্কেবারে—মেধাশূণ্য! তবু ভীষণ আত্মগর্বী,
শূন্য কলস বাজে বেশি—এ সত্য বহু প্রাচীন—নকল রবি।
মানুষ চিনতে শেখোনি, শিখেছো শুধু ভান,
তাই তো সত্য সামনে এলেই বদলে ফেলো কথার টান।
বইয়ের ভারে নুয়ে পড়ে মস্তিষ্ক হয়েছে ক্লান্ত,
বোধের জায়গা ফাঁকা রেখে জাহির করো প্রান্ত।
শেষে আয়না হেসে বলছে—“বাহ! কী জ্ঞানীরে ভাই!”
ভিতরে শূন্য মরুভূমি, বাইরে কৃত্রিম ঠাঁই।
Leave a Reply