কেন্দুয়া থেকে কোহিনূর আলমঃ কেন্দুয়া জয় হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বশেষ (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) ইফফাত জারিন ফাউন্ডেশন কর্তৃক ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রাপ্ত নেত্রকোণার কেন্দুয়ার সাউদপাড়ার বাসিন্দা যহির উদ্দীন আহমেদ (স্যার) আর নেই। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় সাউদপাড়াস্থ নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ আজ সকাল ১১টায় কেন্দুয়া জয় হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজার নামাজ তাঁর নিজ গ্রাম কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর দিঘলকুর্শা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে পারিবারিক সূত্রে। যহির উদ্দীন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১০ মে, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায়। তাঁর পিতার নাম মিয়া হোসেন, মায়ের নাম হাসিনা আক্তার। শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যহির উদ্দীন আহমেদ (স্যার) ঢাকা মিরপুরের হযরত শাহ আলী একাডেমি, জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়, জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয় ও নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮৩ সালে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। একজন আজীবন শিক্ষক, একজন নীরব আলোকবর্তিকা এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্ণাঢ্য জীবন তাঁর। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার জাওয়ার গ্রাম থেকে তিনি ভারতের মেঘালয়ের মহেশখোলা ক্যাম্পে চলে যান এবং রংড়া ক্যাম্পে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে কবির কোম্পানির কার্টুন কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। ভারত থেকে ট্রলারে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর তিনি বিভিন্ন গেরিলা অপারেশন চালাতেন। ধর্মপাশা পাকিস্তানি ক্যাম্পে তিনি ক্যাপ্টেন হামিদের নেতৃত্বে অপারেশন চালান। ক্যাম্প আক্রমণ করার পর সারারাত তুমুল যুদ্ধের শেষে ভোরবেলায় রাজাকাররা লাশ ফেলে নেত্রকোণায় পালয়ে যায়। মদন, তাড়াইল এবং করিমগঞ্জের অপারেশনে ভারতীয় ক্যাপ্টেন চৌহান-এঁর নির্দেশে একরামপুর রেললাইনের ধারে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও কিশোরগঞ্জ স্বাধীন হয়েছিলো ১৭ ডিসেম্বর এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল নিয়ে যহির উদ্দীন আহমেদ কিশোরগঞ্জ দখল করেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় ০১ (এক) মাস পর ময়মনসিংহের এসপি মোতালেবের নিকট তিনি অস্ত্র জমা দেন এবং যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানির নিকট থেকে মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র লাভ করেন তিনি। তাঁর এই মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a Reply