1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

নেত্রকোণা-১ আসনে ধানের শীষ ও রিকশার লড়াই

  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৩ দেখা হয়েছে
নেত্রকোণা-১ আসনে ধানের শীষ ও রিকশার লড়াই
নেত্রকোণা-১ আসনে ধানের শীষ ও রিকশার লড়াই

কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-১ সংসদীয় আসনকে ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৮৫ জন এবং দুর্গাপুর উপজেলায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন। আসনটি ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। পুরুষ ও নারী ভোটারের পাশাপাশি উভয় উপজেলায় কয়েকজন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। ৬ প্রার্থী, তবে মূল লড়াই দুই প্রতীকে এ আসনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী (রিকশা), জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মান্নান (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর (কাস্তে) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির বেলাল হোসেন (তারা)। তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপির ধানের শীষ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের মধ্যে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা, মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। অন্যদিকে এগারো দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল ঘুরে এবার খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ঘিরে এলাকায় দলবদলের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, তিনি সাধারণত যে দলে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নেত্রকোণা-১ আসনে উপজাতি ও সংখ্যালঘু ভোটাররা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় গারো, হাজং, কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। বিশেষ করে দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন গুলোতে এসব জনগোষ্ঠীর ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। যদিও সরকারি সূত্রে উপজাতি বা সংখ্যালঘু ভোটারদের আলাদা কোনো হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তাঁদের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। এবারের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী এলাকার ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অনেক ভোটারের আশঙ্কা- ধর্মীয় কট্টরতা বা সেই রাজনৈতিক ধারা ক্ষমতায় এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, যাতায়াত, এমনকি পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এক সীমান্তবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা এমন সরকার চাই, যারা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। সম্পর্ক খারাপ হলে সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের মতো সীমান্তের মানুষদেরই। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী ভোটারদের একটি অংশ তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে রাখছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। তাঁদের মতে, জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিএনপির অভিজ্ঞতা এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আইন ও নীতি নির্ধারণ মূলক ভূমিকা তাঁকে এই আসনে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নেত্রকোণা-১ আসনে এবারের নির্বাচন হবে উৎসব মুখর। উপজাতি ও সংখ্যালঘু ভোটার, সীমান্তবাসীর ভাবনা এবং তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটারদের রায় কোন প্রতীকের পক্ষে যাবে- তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিনই।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর