হাফিজ উল্লাহ চৌধুরী আলিমঃ নেত্রকোণার পূর্বধলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে গেছে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটিসহ ঘরবাড়ি। পূর্বধলায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ঝড়ে উপজেলার সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, বিশকাকুনী, ধলামূলগাঁও ও নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক ঝড় ও শিলার আঘাতে টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে, অনেক স্থানে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি। ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চালের ওপর শিলা পড়ার শব্দে মনে হচ্ছিল পাথর ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখা যাচ্ছিল না, ঝড়ের চাপ এতো বেশি ছিল। একই ইউনিয়নের কৃষক মো. আইনউদ্দিন খাঁ জানান, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো ধানের তোড় পুরোপুরি না আসায় বড় ক্ষতি হয়নি, তবে অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোশাররফ তালুকদার বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি আগে খুব কম দেখেছি। টিনের চালের ওপর বিকট শব্দে বোঝা গেছে, শিলার আঘাত কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের পরিষদের (ইউপি) সদস্য আজিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, পূর্বধলায় নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে বোরো ধান, শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ঝড়ের কারণে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল আটকে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ফেললে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আকরম হোসেন বলেন, গতরাতের ঝড়ে আমাদের কিছু বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত থেকেই আমাদের লোকজন লাইন সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো একটি ফিডারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ আছে। খুব দ্রুত লাইনটি সংস্কার করা হবে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, গতকালের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে পূর্বধলা উপজেলায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে ধান, ভুট্টা, শসাসহ বিভিন্ন শাকসবজি রয়েছে। ফসলের চূড়ান্ত ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব মানুষের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যোগাযোগ করলে সরকারি বিধি মোতাবেক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
Leave a Reply