1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

যন্ত্রপাতি অকেজো—প্রশাসনিক দুর্বলতায় বাড়ছে ভোগান্তি, সমালোচনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ দেখা হয়েছে
যন্ত্রপাতি অকেজো—প্রশাসনিক দুর্বলতায় বাড়ছে ভোগান্তি, সমালোচনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
যন্ত্রপাতি অকেজো—প্রশাসনিক দুর্বলতায় বাড়ছে ভোগান্তি, সমালোচনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অনুমোদিত পদের অর্ধেক চিকিৎসকই নেই কর্মস্থলে, আর যারা আছেন তাদের মধ্যেও চারজন দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে রয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একজন চিকিৎসকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি। ফলে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে অনুুমোদিত ৪১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ২০ জন। এর মধ্যে চারজন চিকিৎসক বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুুটেশনে এবং একজন বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এতে চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। শুধু চিকিৎসকই নয়, অন্যান্য জনবল ঘাটতিও মারাত্মক। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৮টি পদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন। ৩৭ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত ৩৪ জন। স্বাস্থ্য সহকারীর ৫০টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২৭ জন। একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটিও কার্যত অচল। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভেতরেই ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স নিয়মিত পার্ক করে রাখা হয়, যা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ৫০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স—রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে রেডিওগ্রাফার না থাকায় অকেজো পড়ে আছে। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও অ্যানেসথেটিস্ট ও গাইনি বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন সেবা। এতে জরুরি সময়ে গর্ভবতী নারীরা চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে বহুগুণ। ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন— ডা. এ. কে. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন (কার্ডিওলজি), যিনি ২০২৩ সাল থেকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে কর্মরত; ডা. মো. আব্দুল হান্নান (চক্ষু), ২০১৭ সাল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে; ডা. মোহাম্মদ নঈম ইকবাল মোল্লা (শিশু), ২০২৪ সাল থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ডা. জেন্টি মজুমদার (সহকারী সার্জন), ২০২৪ সাল থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। এছাড়া আইএমও ডা. সজীব পাল চৌধুরী ২০১৯ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমিত সংখ্যক চিকিৎসকের মধ্যেও কেউ কেউ ডেপুটেশনে চলে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, “যারা এখানে থাকতে চান না, তাদের অন্যত্র বদলি করা হোক। এতে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এখানে চাকরি করে অন্য জায়গায় সেবা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।” সম্প্রতি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর ভিড় দেখে তিনি বলেন, “হাসপাতালের চেয়ে রোগী বেশি আপনাদের চেম্বারে—কী যে জাদু করেছেন আপনারা!” পরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি দ্রুত সেবার মান উন্নয়নের নির্দেশ দেন এবং রোগীদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে আহ্বান জানান। এদিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুনের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে সচেতন মহলে সমালোচনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকলেও কার্যকর পরিবর্তন আনতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “ডা. আল মামুন ব্যক্তি হিসেবে ভালো হলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অনভিজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে চলাফেরা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত বদলি হলে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান উন্নত হতে পারে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন জানান, চিকিৎসক সংকট ও ডেপুটেশনের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ এবং ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের ফিরিয়ে আনা গেলে সেবার মান অনেকটাই উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান চিত্র সেই লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর