নুর মোহাম্মদ খানঃ নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার ঘাগড়া নয়াপাড়া গ্রামের লাকী আক্তারকে। স্বামী অসুস্থ, মাথার ওপর নেই ঘরের ছাদ, অথচ পাঁচ সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব তারই কাঁধে। দুই বছর আগে কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে যায় তাদের একমাত্র বসতঘর। সেই থেকে আশ্রয়হীন পরিবারটির কষ্ট যেন শেষ হওয়ার নয়। ঘর হারানোর পর থেকে সন্তানদের নিয়ে ভাঙ্গা বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে খোলা পরিবেশে নানা কষ্টে দিন কাটছে তাদের। সংসারে উপার্জনক্ষম স্বামী অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে লাকী আক্তারের কাঁধে। সন্তানদের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করাই এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন তিনি। অনেক সময় প্রয়োজনীয় খাবারও জোটে না। লাকী আক্তার বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। পাঁচ সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। দুই বছর আগে ঝড়ে আমাদের একমাত্র ঘরটি ভেঙে গেছে। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। অনেক সময় দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমার নিজের জন্য কিছু চাই না, শুধু সন্তানদের নিয়ে থাকার মতো একটি ঘর আর স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা চাই। সমাজের বিত্তবান ও সরকারের কাছে সহযোগিতার আকুতি স্থানীয়রা বলেন, অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে একটি ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে পাঁচ সন্তান নিয়ে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকারি—বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply