সৈয়দ সময়ঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রণসারে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, উপবৃত্তির অর্থ এবং বসতঘর বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা প্রদান করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোণা—১ (দুর্গাপুর—কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান আসিফ। বক্তব্যে ডেপুটি স্পীকার বলেন, ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর মানুষকে ‘অনগ্রসর’ হিসেবে চিহ্নিত করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, গারো, হাজংসহ সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক এবং তাদের পরিচয়ের সঙ্গে ‘অনগ্রসর’ শব্দটি আর যুক্ত দেখতে চান না। তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতি, সমঅধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে ভূমিহীন পরিবারের জন্য বসতঘর নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মন্দির ও গির্জার সংস্কার, সীমান্ত সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। হাজং ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হাজং ভাষার বই প্রকাশ এবং মন্দিরভিত্তিক মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারে। তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এগুলো বিক্রির জন্য নয়; বরং স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উপবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি ভালো ফলাফলের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি উৎসাহ। অনুষ্ঠানে ৪২ জন শিক্ষার্থীর হাতে বাইসাইকেল, ২৮ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাথমিক স্তরের ১৪১ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা, মাধ্যমিক স্তরের ৮৫ জনকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৫৭ জনকে জনপ্রতি ৭ হাজার টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নয়টি পরিবারের হাতে নতুন বসতঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply