নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনবল সংকটে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তাকে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ বা মাতৃত্বকালীন ভাতার যাচাই-বাছাইয়ে ভুলের কারণে প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণা সদর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার শারমীন শাহজাদী বর্তমানে নিজের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি পূর্বধলা ও মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ২ দিন তিনি পূর্বধলা অফিসে সময় দিতে পারেন। ফলে জরুরি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য অফিসের কর্মচারীদের নেত্রকোণা সদরে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে হয়। সম্প্রতি ‘পূর্বধলা দর্পণ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর অজান্তেই তাঁর নামে ভাতার টাকা অন্য কেউ ভোগ করছে। কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও সশরীরে উপস্থিত থেকে যাচাই-বাছাই না করার কারণেই এমন জালিয়াতি ও ভুল হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো কাজের জন্য অফিসে আসলে দিনের পর দিন ফাইল জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অফিসের স্টাফরা জানান, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তাঁরা ওটিপি (ঙঞচ) নিয়ে বা কাজ জমিয়ে রেখে কোনোমতে সেবা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রৌফ সরকার বলেন, শুধু পূর্বধলা নয়, সারা জেলায় মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা দিয়ে কাজ চলছে। আমরা নিয়মিত শূন্য পদের বিষয়ে অধিদপ্তরকে জানাচ্ছি। তবে নতুন স্থায়ী নিয়োগ কবে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
Leave a Reply