শেখ শামীমঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক উপ—সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ বিক্রি, ভুয়া ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার এবং সিন্ডিকেট গঠন করে সাধারণ খামারিদের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৫—২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকা কর্মকর্তার নাম মো. সুরুজ আলী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার মুক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন। একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকারের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপ—সহকারী মো. সুরুজ আলী কলমাকান্দা প্রাণিসম্পদ অফিসে দীর্ঘ দেড় থেকে দুই দশক ধরে কর্মরত। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত গবাদিপশুর ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ না করে বেনামে বাইরে বিক্রি করে দেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো তার ‘ডাক্তার’ পরিচয়। তিনি কোনো নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসক না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে ‘ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দেন। ভুয়া পরিচয়ে তিনি খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ও হাঁস—মুরগির চিকিৎসা করেন। এজন্য তিনি খামারিদের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ভিজিট আদায় করেন। চিকিৎসা দেওয়ার সময় তিনি সরকারি ওষুধ ব্যবহার করলেও তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এ ধরণের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ খামারিরা।
Leave a Reply