1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

কলমাকান্দা বক্স কালভার্টের মাঝখানের অংশ দেবে গেছে- যে কোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৫ দেখা হয়েছে
কলমাকান্দা বক্স কালভার্টের মাঝখানের অংশ দেবে গেছে
কলমাকান্দা বক্স কালভার্টের মাঝখানের অংশ দেবে গেছে

শেখ শামীমঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে একটি বক্স কালভার্টের মাঝখানের অংশ দেবে গেছে। একই সঙ্গে কালভার্টটির দুই পাশের রেলিংয়ের ঢালাই খসে গিয়ে কঙ্কালের মতো বেরিয়ে পড়েছে মরিচা ধরা রড। যেকোনো মুহূর্তে এটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ভাঙা পথ দিয়ে পারাপার হচ্ছেন চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পাঁচকাঠা বাজার থেকে ফকির চান্দুয়াইল বাজারে যাওয়ার পথে ধনুন্দ গ্রামের আবদুল কাদির বাড়ির সামনে ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্টটি অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিলের বৃষ্টির পানির প্রবল তোড়ে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ দেবে যায়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে কালভার্টটির অত্যন্ত নাজুক অবস্থা চোখে পড়ে। এর দুই পাশের রেলিংয়ের কংক্রিট বা ঢালাই সম্পূর্ণ খসে পড়েছে। কঙ্কালসার জং ধরা রডগুলো বিপজ্জনকভাবে বেরিয়ে আছে। কালভার্টের ওপর খসে পড়া ঢালাইয়ের বড় বড় টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে পার হওয়াটাও এখন মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, ২০১৪—১৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই বক্স কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এক দশক পার হতে না হতেই কালভার্টটির জরাজীর্ণ এমন দশা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। কালভার্টের সন্নিকটে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদির আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, “গতকাল (মঙ্গলবার) কালভার্টটির মাঝখান দেবে গেছে, আর রেলিংয়ের ঢালাই খসে গিয়ে শুধু রডগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এখন আমাদের মাঝে সব সময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন জানি এটি ভেঙে পড়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়।” শিক্ষার্থী আসাদুল গালিব ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, “এখন প্রতিদিন ভয় নিয়ে ভাঙা এই ব্রিজ পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। রেলিং ভাঙা থাকায় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ও নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় লাগে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।” স্থানীয় শিক্ষক বাবু নিতীশ চন্দ্র সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই কালভার্টটি আমাদের এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যেভাবে ঢালাই খসে রড বেরিয়ে গেছে এবং মাঝখানটা দেবে গেছে, এতে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে অতি দ্রুত এর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।” স্থানীয় ইউপি সদস্য ছমির আলী কালভার্টটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই এলাকায় মাদ্রাসাসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাঁচকাঠা বাজার, গাংধরকান্দা, ধনুন্দ, ফকির চান্দুয়াইল, সাকুয়া বাহাম নামক এলাকায় সর্বসাধারণের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। কালভার্টটি অকেজো হয়ে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।” এ বিষয়ে কলমাকান্দার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, “এটি ২০১৪—১৫ অর্থবছরে নির্মিত বক্স কালভার্ট। সম্প্রতি ওই সড়কের বক্স কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) এর অধীনস্থ।” যেহেতু সড়কটি বর্তমানে এলজিইডির অধীনে, তাই এ বিষয়ে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে কালভার্টটির বর্তমান অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।” দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর