তেল কবে এল, কে বা দিল তার পাঠ,
ইতিহাস ঘেঁটে পাই না তার সঠিক ঠাঁট।
গুহার আঁধারে নাকি শুরু সেই খেলা,
মানুষ শিখল আগে, না জিন করল বেলা?
কেউ বলে আগুনে, কেউ বলে রান্নাঘরে,
কেউ বলে রাজদরবারে চাটুকারদের ঘরে।
ধীরে ধীরে তেল ঢুকল জীবনের রন্ধ্রে,
সত্য মুছে গেল মিথ্যার মসৃণ বন্ধনে।
তেল এখন শিল্প, তেল এখন জ্ঞান,
তেল ছাড়া নাকি চলে না কোনো প্রতিষ্ঠান!
চেয়ার টিকাতে তেল, পদ পেতে তেল,
মুখে মধু, অন্তরে লুকানো ছলচাতুরীর খেল।
জিন কি শিখিয়েছিল, নাকি মানুষই গুরু?
আজ দেখে মনে হয় দু’জনেই সমান চতুর!
যেখানে তাকাও শুধু তেলেরই ছড়াছড়ি,
বিনা তেলে কাজ যেন পড়ে থাকে ঝুলে ঝুলে বাড়ি।
পশু—পাখিও নাকি শিখেছে এ রীতি,
তেল মেখে বাঁচা আজ জীবনের নীতি!
সততা হারিয়েছে, নীতিরা গেছে হেরে,
তেলের জোয়ারে সবাই ভাসে ধীরে ধীরে।
আফসোস! তেলের দুনিয়া বড়ই বেহাল,
মানুষ—জিন ছাড়িয়ে তেল এখন সর্বজয়ী জাল!
আমি অধম প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে নানা কাজে হই মত্ত,
সেকারণে সহসা খুঁজতে যাইনি তেলের তত্ত্ব।
Leave a Reply