পূর্বধলায় প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলায় অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় উন্মুক্ত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২০ মে) দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। ইজারার উন্মুক্ত ডাক শুরুর আগে থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও হাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে কথা—কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে হলরুমজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু ডাকের শর্ত উন্মুক্তভাবে পড়ে শোনানোর সময় হঠাৎ কিছু দলীয় নেতাকর্মী এসে হট্টগোল শুরু করে। পরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। আহত হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।” পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ইজারা শুরুর সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ভেতরে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া—পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়েছি। আহত হওয়ার নির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।” এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত ও স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার মারামারি বা হাতাহতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” এ ঘটনায় যুবদল কর্মী শরীফের ওপর হামলা এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply